নেট-জিরো এনার্জি বিল্ডিং মানে, যে সব বিল্ডিংয়ে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ ও সেই বিল্ডিংয়ে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য শক্তির পরিমাণ সমান। অর্থাৎ, বিল্ডিংটিতে বাড়তি শক্তির দরকার পড়ছে না। আর, বাড়তি শক্তি না লাগলে, শক্তি উৎপাদনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারও দরকার পড়বে না। সেক্ষেত্রে কমে যাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস উৎপাদন এবং কমবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।

১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিষয়টি কী? শিল্পবিপ্লবের আগেকার সময়ের তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের ঘনত্ব (পিপিএম) বেড়ে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার এখন প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এটাকে কমিয়ে আনতে হবে। নাহলে গলে যাবে বরফ, বাড়তে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। গত দশকগুলোতে হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এর মধ্যেই বেড়ে গেছে ১০ সে.মি.। গত ৩০ বছরে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি হয়েছে দ্বিগুণ।

পৃথিবীর মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাত্র ০.৪০ শতাংশ নিঃসরণ করে বাংলাদেশ। কিন্তু ভোগার সময় বাংলাদেশ ভূগবে অনেক বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে দশটি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে, এর একটি বাংলাদেশ। এরমধ্যেই আমাদের ঋতু ওলট-পালট হয়ে গেছে। কাঠফাটা রোদ যেমন পড়ছে, তেমনি চলছে বৃষ্টি-বন্যা। একদিকে বরিশাল, দিনাজপুর, রাজশাহী ইত্যাদি অঞ্চলগুলোতে বার্ষিক ভারী বর্ষণের হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আরেকদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদী ভাঙন বেড়েছে অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনের মতো উচ্চ-আয়ের শীর্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণকারী দেশগুলোকে তাই এগিয়ে আসতে হবে এ সব সমস্যা সমাধানে। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে শীর্ষে আছে চীন, দ্বিতীয়তে যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশগুলো এগিয়ে না এলে এসব সমস্যার সমাধান হবে না।

এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে হবে ধনী দেশগুলোর। সেজন্য এই দেশগুলোর প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার করে সহায়তা দেওয়ার কথা। আগে দেওয়া কথা পূরণ করেননি বিশ্বনেতারা। কিন্তু এখন যেন সেটি হয়, এ নিয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজও করতে হবে তাঁদের। এ সহায়তা কাজে লাগবে প্রকৃতিবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের উৎস নির্মাণে, বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মানুষ আশ্রয় নেওয়ার মতো আশ্রয়াস্থল নির্মাণে এবং বন্যা ও ক্ষরা প্রবণ অঞ্চলে বেঁচে থাকতে পারে—এমন কৃষিজাত উদ্ভিদ উৎপাদন ও চাষে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হয়তো লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে দুর্যোগের সময়। সব দেশ এগিয়ে এলে, প্যারিস চুক্তি আসলেই বাস্তবায়ন করলেই কেবল সেটা সম্ভব।

default-image

কপ-২৬ এ গত ১ নভেম্বর, ২০২১ বক্তব্য রেখেছেন শেখ হাসিনা। দেশের এনডিসি বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর নতুন লক্ষ্যের কথা বলেন তিনি। বলেন, কোনো উদ্যগ না নিলে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ যা হওয়ার কথা, তার চেয়ে ২২ শতাংশ কম রাখতে চায় সরকার। ২০১৫ সালে ঘষিত লক্ষ্যের তুলনায় এটি ৭ শতাংশ বেশি। ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগে ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করার কথাও বলেন তিনি। আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে জাতীয় শক্তির ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নেওয়ার কথা। বিশ্বনেতাদের ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি পূরণেও গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, তাঁর সরকার 'মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা' বাস্তবায়ন করবে।

আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন। বিশ্বনেতারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন, সবদেশ একসঙ্গে হয়ে মোকাবেলা করবে জলবায়ু দূর্যোগের—কপ-২৬ এর আসল লক্ষ্য এটিই। সে লক্ষ্য পূরণ হবে, এটাই বিশ্বের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের চাওয়া।

সূত্র : ইউকেকপ২৬ ডট কম, প্রথম আলো

ফিচার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন