বিজ্ঞানচিন্তা আরও অনেককে পরিপূর্ণ করে তুলুক

হয়তোবা এক বছর আগের কথা। আমার ঠিক মনে নেই। প্রথম আলোর একটা কুইজের মাধ্যমে পরিচয় বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গে। কুইজটা দেখার পর মূলত বিজ্ঞানচিন্তার পেজসংখ্যা জানতে আমি ম্যাগাজিনটি কিনি। কেননা কুইজে একটি প্রশ্ন ছিল, বিজ্ঞানচিন্তার পেজসংখ্যা কত? সেদিন শুধু পেজসংখ্যা জানার জন্য কেনা বিজ্ঞানচিন্তার সেপ্টেম্বর সংখ্যাটি আমায় সুযোগ দিয়েছিল একটি অদ্ভুত অথচ মোহময় জগতে অনুপ্রবেশের। যে জগতে দুশ্চিন্তাগুলো দল বেঁধে হারিয়ে যায় কৌতূহলদের ভিড়ে। চক্ষুতারারন্ধ্রে ধরা দেয় কোয়ান্টাম তত্ত্ব, ইথার এক্সপেরিমেন্ট, এমআরএনএ, অ্যাস্ট্রোফিজিকস থেকে শুরু করে আমার একান্ত প্রিয় ব্রাড গান ও স্টিভেন লিস্টের দুর্দান্ত দিগ্বিজয়ী সেই কমিক ‘চন্দ্রজয়ী প্রথম নারী’। আরও যে কত কী, তার ইয়ত্তা নেই। মাঝে পড়াশোনার বিশ্রী একটা চাপে ম্যাগাজিন, পত্রিকা পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি নির্বাসনে ছিল। তবে এখন সবকিছুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে, তাল মিলিয়ে বহু কষ্টে আবার আগের মতো গুছিয়ে নিয়েছি।

গত সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞানচিন্তার রংপুরের আয়োজনে গিয়েছিলাম প্রথমবারের মতো। সেই দিনটা ছিল একগুচ্ছ আনন্দ ও একরাশ অভিজ্ঞতা অর্জনের দিন। সেদিন একটি বইও উপহার পেয়েছিলাম। আব্দুল কাইয়ুম স্যারের লেখা ‘প্রশ্নোত্তরে বিজ্ঞানের কী ও কেন’, যা বর্তমানে আমার নিত্যসঙ্গী বলা যায়। স্কুলে, প্রাইভেটে, কোচিংয়ে বিজ্ঞান ক্লাসে স্যারদের প্রশ্ন করে কতকটা দ্বিধায় ফেলে দিয়ে কী যে এক অপার্থিব ভালো লাগা কাজ করে (যদিও তা ক্ষীণ অন্যায়)। বর্তমানে একচিলতে কৌতূহল দমাতে বিজ্ঞানচিন্তাই আমার একমাত্র ভরসা। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা একটু একটু করে মিটিয়ে দেয় দেহঘড়ির প্রকৃত অম্লজানের ঘাটতি। একটু একটু করে মুক্ত হয় উদ্‌যান। যারা বলে, বিজ্ঞান নেহাতই একঘেয়েমিতে ভরা; তাদের বলি, ‘বাছা, একবার তো এই ম্যাগাজিন পড়া শুরু করো, তোমার একঘেয়েমি লেজ তুলে পালাবে।’

তুমি ঘোরপাক খাবে জিনো ইফেক্টে। কত প্যারাডক্সে তোমার বিস্মিত হওয়া বাকি। ইশ্‌শ্‌...। পরিশেষে, বিজ্ঞানচিন্তার প্রত্যুদ্‌গমন শুভ-শোভনীয় হোক। বিজ্ঞানচিন্তা আরও অনেককে পরিপূর্ণ করে তুলুক অসংখ্য প্রমায়। আরও অনেককে সঙ্গ দিক, আমার মতো হাবলুদের নিয়ে যাক লিনাস পুলিং, জন বার্ডেন, ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা, ফ্রেডারিক সেঙ্গারদের সান্নিধ্যে। না হোক সরাসরি, হোক অদৃশ্য বন্ধনে।

ইচ্ছা, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম