বিজ্ঞানচিন্তার মাধ্যমে নিজেকে অন্যভাবে তুলে ধরতে পেরেছি

অনেক দিন ধরে ভাবছি, তোমাকে চিঠি লিখব, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। এবার সব বাদ দিয়ে এক আকাশ ইচ্ছা নিয়ে তোমাকে লিখছি। এটাই আমার প্রথম চিঠি। জানি না, ছাপাবে কি না। আমি তোমার নতুন পাঠক। তোমার সঙ্গে পরিচয় ২০২৪ সালের শেষ দিকে, কিন্তু বিজ্ঞানচিন্তার একনিষ্ঠ পাঠক হয়েছি ২০২৫ সালের এপ্রিলে।

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাই তাকে, যে এত সুন্দর ম্যাগাজিনটির সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। অসংখ্য ধন্যবাদ আমার বান্ধবী মাইশাকে। সে আমাদের স্কুলে এসেছে এক বছর। মূলত মাইশার বাবার চাকরির বদলির কারণে তার এখানে আসা। প্রথম দিকে তাকে না চিনলেও এখন সে আমার বেশ ভালো বন্ধু। তার মাধ্যমেই তোমার সঙ্গে আমার পরিচয়।

এখন আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি প্রতি মাসে বিজ্ঞানচিন্তার জন্য। এখন প্রতি মাসে বিজ্ঞানচিন্তা না পড়লে কী যেন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে বলে মনে হয়। আমাদের মধ্যে অনেকে অনেক বই পড়ে (যেমন গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি)। কিন্তু একসময় আমি পাঠ্যবই ছাড়া কিছুই পড়তাম না। কেননা, আমার মনে হতো, অন্য বইগুলো শুধু সাদা-কালো বই ছাড়া আর কিছু নয়। রঙিন কিছু নেই। অবশেষে আমার মনের মতো একটি ম্যাগাজিন খুঁজে পেলাম, যার নাম বিজ্ঞানচিন্তা।

ম্যাগাজিনটি পড়ার আগ্রহ জন্মানোর কারণ এর অসম্ভব সুন্দর ছবি। সত্যিই ছবিগুলো এককথায় অতুলনীয়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাগাজিনটি পড়তে শুরু করি। বিজ্ঞানবিষয়ক এমন হাজারটা অজানা বিষয় জানতে পেরেছি এই ম্যাগাজিন থেকে। এটা শুধু একটি ম্যাগাজিন নয়, এটা আমার জন্য একটা অনুপ্রেরণাও। এবার যদি বলি আমার শিরোনামের কথা—হ্যাঁ, বিজ্ঞানচিন্তার মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছি অনেক ক্ষেত্রে। আমাদের স্কুলে বিজ্ঞানের শিক্ষক শামীম স্যার আমাদের বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিনটি এনে দেন। একদিন আমাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরির কথা বলা হলো। তখন শামীম স্যার আমাদের ক্লাসে এসে বললেন, এই যে বিজ্ঞানচিন্তার পাঠকেরা, তোমাদের বিজ্ঞান প্রজেক্টটি তৈরি করতে হবে। এখানে বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরি বড় কথা নয়, বড় কথা হচ্ছে স্যার আমাদের বিজ্ঞানচিন্তা পাঠক হিসেবে চেনেন। সৌভাগ্য আমাদের, তাই না!

পরিশেষে বিজ্ঞানচিন্তার পথচলা দীর্ঘস্থায়ী হোক। এত সুন্দর ম্যাগাজিনটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার বান্ধবীকে আবারও ধন্যবাদ। বিদায়।

মালিহা নওশীন, জাঙ্গালিয়া উচ্চবিদ্যালয় কালীগঞ্জ, গাজীপুর