বাংলায় কাঁচা ঘুম বলতে যা বোঝায় সেটা হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘুম। এরপর ঘুম গাঢ় হওয়া শুরু করে। মস্তিষ্ক বিশ্রাম শুরু হয় এই তৃতীয় পর্যায় থেকে। এই বিশ্রামের কারণে মূলত দেহের ক্লান্তি দূর হয়। সকালে সবকিছু সতেজ লাগে। সবশেষে শুরু হয়, ঘুমের রেম বা র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট পর্যায়। আমরা স্বপ্ন দেখি এ পর্যায়ে। চোখের পাতা কাঁপতে থাকে এসময়। মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশ ঘুমিয়ে পড়লেও এসময় জেগে হিপোক্যাম্পাস নামের একটি অংশ। হিপোক্যাম্পাসের কাজ মূলত যেকোন স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় এই অংশটি নতুন স্মৃতি সংরক্ষণের পরিবর্তে পুরাতন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিকে দীর্ঘস্থায়ীতে স্মৃতিতে রাখার কাজ করে। ফলে, স্বপ্নের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে বাঁধা পড়ে না।

শুধু স্বপ্ন নয় দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ ঘটনাই আমরা ভুলে যাই। এই যেমন কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, গতকাল সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় কী ভাবছিলেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে না। স্মৃতির কোন ব্যাপারটি মস্তিষ্ক রাখবে, আর কোনটা ফেলে দিবে সেটা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী, উভয় স্মৃতির বেলাতেই দেখা যায় সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় কোন স্মৃতি জমা আছে পরম যত্নে। কিন্তু দরকারি স্মৃতিটা নেই। স্মৃতির সাথে মনোযোগ বা গুরুত্বেরও তেমন একটা সম্পর্ক নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বারবার চর্চার মাধ্যমে কেবল স্মৃতিকে শাণিত রাখা যায়।

তবে, চাইলে কিন্তু স্বপ্ন মনে রাখা সম্ভব। এজন্য ঘুম ভাঙার পরই স্বপ্নকে বারবার মনে করার চেষ্টা করতে হবে। ভালো হয় ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই স্বপ্নটা লিখে রাখলে। এছাড়া ঘুমানোর আগে ‘স্বপ্ন মনে রাখতে হবে’ এই কথা নিজেকে বারবার বলার পরমার্শ দেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। এতে মস্তিষ্ক স্বপ্নের স্মৃতির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন