নিজেই বানান সিসমোগ্রাফ যন্ত্র

ভূমিকম্প হলেও চারদিকে হইচই শুরু হয়ে যায়। সবারই মুখেই তখন প্রশ্ন ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে। ৬, ৭ কিংবা ৮ মাত্রা শুনলেই ভয়ে আঁতকে ওঠে সবাই। কী এই ভূমিকম্পের মাত্রা?

সিসমোগ্রাফ যন্ত্রে একটি পেন্ডুলামকে প্রয়োজনমতো ভর দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই পেন্ডুলামটি ভূমিকম্পের প্রভাবে কাঁপে। পেন্ডুলামের নিচে থাকা কাগজে কম্পনের মাত্রা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গ্রাফ তৈরি হয়। আধুনিক সিসমোগ্রাফে এই গ্রাফ তৈরি হয় বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে।

তবে বাড়িতেও সাধারণভাবে সিসমোগ্রাফ যন্ত্র বানানো যায়।

যা যা লাগবে

১. একটি মাঝারি আকৃতির বাক্স

২. ৪–৫টি এফোর কাগজ

৩. ১টি বোর্ড মার্কার

৪. ৪০–৫০টি রাবার ব্যান্ড

৫. ১টি স্কচটেপ

৬. ১টি এনটি কাটার

সিসমোগ্রাম দেখতে শেখা

সিসমোগ্রাফ যন্ত্রে ভূমিকম্প শেষে উঁচু নিচু রেখায় ভরা একটা গ্রাফ চিত্র তৈরি হয়। সারা পৃথিবীতে সবসময় ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। সবগুলোর প্রাথমিক কম্পনই ধরা পরে সিসমোগ্রাফ যন্ত্রে। এই গ্রাফ চিত্রকে বলা হয় সিসমোগ্রাম।

ছোট ছোট এই কম্পনগুলো এতোটাই দুর্বল যে স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা এগুলো বুঝতেও পারি না। সমুদ্রের ঢেউ, জোরালো বাতাস এমনকি বড় যানবাহনের জন্যও অনেক সময় এমন ছোট–খাট কম্পনের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও সিসমোগ্রামে মূল দাগের পাশাপাশি ছোট ছোট বিন্দু দাগের সৃষ্টি হয়। এগুলোকে বলা হয় ‘মিনিটস মার্ক’। যা দেখে ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল ও সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

নিচের ছবিতে দেখা যায় যে ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে বেশি। এগুলোর গতি অনেক বেশি হলেও কম্পন মাত্রা বেশ কম। প্রাথমিক তরঙ্গের উপস্থিতি টের পেয়েই গবেষকরা ভূমিকম্পের কিছু সময় আগে পূর্বাভাস সম্পর্কে ধারণা পান। এরপরে ধীরে ধীরে সেকেন্ডারি কম্পন আঘাত হানে। এটির গতিবেগ প্রাথমিক কম্পনের তুলনায় কম হলেও, এর মাত্রা থাকে অনেক বেশি। তাই এটির জোরালো আঘাতেই মূল ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

তবে অনেক ক্ষেত্রে যদি প্রাথমিক কম্পনের গ্রাফ তৈরি হওয়ার পরেও সেকেন্ডারী কম্পন সৃষ্টি না হয় তাহলে বুঝতে হবে পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সীমানার বাইরে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। পৃথিবীর ভেতরের স্তরে তরল উপাদান থাকার ফলে, এই কম্পন পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে সিসমোগ্রাফে এসে পৌছায় না।