ক্রোমিয়াম নামটি যেভাবে পেলাম

পৃথিবীর প্রাচুর্যময় মৌলের মধ্যে ২১তম অবস্থানে আছে ক্রোমিয়াম ধাতু। ক্রোমিয়ামের আবিষ্কারক ফরাসি রসায়নবিদ নিকোলা লুই ভ্যাকুইলিন। ১৭৯৭ সালে সাইবেরিয়া থেকে পাওয়া একটা উজ্জ্বল লাল বর্ণের খনিজের নমুনা থেকে তিনি এই ধাতু আলাদা করছিলেন। শক্ত, দ্যুতিময়, রুপালি ধাতুটি অক্সিডেশন প্রতিরোধী। এর যৌগগুলো বিভিন্ন রঙে রঙিন হওয়ার কারণেই ল্যাটিন শব্দ ক্রোমা (chroma) থেকে ভ্যাকুইলিনের নাম দিয়েছিলেন ক্রোমিয়াম, যার অর্থ রং। রঙের তীব্রতার কারণে একসময় চিত্রশিল্পীদের পছন্দের রঞ্জক ছিল ক্রোম ইয়েলো (লেড ক্রোমেট)। একই কারণে মার্কিন স্কুলবাসগুলোকে উজ্জ্বল হলুদে রাঙাতে এই রঞ্জক ব্যবহার করা হতো। কারণ ভোরের অল্প আলোতেও দূর থেকে এই বাস দেখা যেত। তবে একসময় জানা গেল, ক্রোম ইয়েলো বিষাক্ত। তাই এই রঞ্জক বাদ দিয়ে এখন ক্যাডমিয়াম ইয়েলো ও অরেঞ্জ ব্যবহার করা হয়।

মানবদেহের জন্য ক্রোমিয়াম বিষাক্ত হলেও এটি খুব সামান্য পরিমাণে দরকারি। ইনসুলিন হরমোনের ওপর এর প্রভাব আছে। প্রতিদিন পূর্ণবয়স্কদের ২৫ থেকে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রয়োজন হয়।

* লেখাটি ২০১৮ সালে বিজ্ঞানচিন্তার জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত