যেভাবে হলো আলোর বেগ c

আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ E=mc2-এর কারণে c প্রতীক সম্পর্কে কমবেশি সবারই জানা। এখানে E হলো শক্তি, m বস্তুর ভর এবং c আলোর বেগ। শূন্যস্থানে আলোর বেগ সাধারণ ইংরেজি ছোট হাতের বর্ণ c দিয়ে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এককালে c প্রতীক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন ধ্রুবকের জন্য ব্যবহার করা হতো। প্রভাবশালী পদার্থবিদ জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েলও ১৮৬৫ সালে আলোর বেগের প্রকাশের জন্য বেছে নিয়েছিলেন V প্রতীক। এমনকি আলবার্ট আইনস্টাইনও ১৯০৫ সালে তাঁর লেখা যুগান্তকারী গবেষণাপত্রে আলোর বেগের জন্য V প্রতীক ব্যবহার করেছিলেন। তবে ১৯০৭ সালে সে প্রতীক বদলে c ব্যবহার করেন তিনি। এরপর থেকে আলোর বেগের জন্য এটাই আদর্শ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন বিজ্ঞানীরা।

এর আগে ১৮৯৪ সালে c প্রতীকটিকে আধুনিকভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন জার্মান পদার্থবিদ পল কার্ল লুডভিগ ড্রুড। একটা আদর্শ শূন্যস্থানে আলোর বেগের জন্য প্রতীকটি ব্যবহার করেন তিনি। তবে স্বীকার করতেই হবে, প্রতীকটি জনপ্রিয় হয়েছে আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণের কারণে। এখন c-এর একটি অর্থ কনস্ট্যান্ট বা ধ্রুবক। আরেকটি হলো লাতিন শব্দ সেলেরিটাসের (celeritas) সংক্ষিপ্ত রূপ। লাতিন এই শব্দের অর্থ দ্রুতগতি বা ক্ষিপ্রগতি। আলোর অবিশ্বাস্য গতির কারণে আলোর ক্ষেত্রেও শব্দটি ব্যবহার করা হতো।

আধুনিক হিসেবে c-এর সঠিক মান সেকেন্ডে ২৯৯, ৭৯২, ৪৫৮ মিটার। সাধারণভাবে প্রতি সেকেন্ডে ৩ লাখ কিলোমিটার বা ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল। আলোর এই বেগের ওপর নির্ভর করেই আধুনিক মিটারকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সেটি হলো শূন্যস্থানে ১/২৯৯, ৭৯২, ৪৫৮ সেকেন্ডে আলো যেটুকু পথ অতিক্রম করে সে দৈর্ঘ্যই এক মিটার।