বিজ্ঞানী
বিভা এক নক্ষত্রের নাম
আজ ভারতীয় কণাপদার্থবিজ্ঞানী বিভা চৌধুরীর জন্মদিন। তিনি ভারতবর্ষের প্রথম নারী কণাপদার্থবিজ্ঞানী। ১৯১৩ সালের এই দিনে (৩ জুলাই) তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। বিজ্ঞানচিন্তার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামকৃষ্ণ বয়েজ হাইস্কুলের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অমিতাভ চক্রবর্ত্তীর কলমে জানা যাক এই মেধাবী নারী সম্পর্কে।
যদি প্রশ্ন করা হয়, আমরা ভারতবর্ষে নারীশক্তির কথা কতবার শুনেছি? উত্তর হবে, অনেকবার। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই এই অনেক ক্ষমতাবান নারীর মধ্যে বিভা চৌধুরীর নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা কজন তাঁর নাম জানি? হয়তো বেশির ভাগই জানি না। এমনকি গুগলে সার্চ করলেও মানুষটিকে নিয়ে খুব বেশি তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ এ সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম এ রকম এক বিজ্ঞান-প্রতিভাকে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে দেখতেই পারেন। কে এই বিভা চৌধুরী? বিভা চৌধুরী এক নক্ষত্রের নাম। আক্ষরিক অর্থেই আকাশের নক্ষত্র বিভা। সম্প্রতি বিভা চৌধুরীর সম্মানার্থে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা আমাদের গ্যালাক্সির সাদাটে-হলুদ এক নক্ষত্রের নাম রেখেছে বিভা। বিজ্ঞানের জগতে এতই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর অবদান। অথচ নিজের দেশেই তাঁকে মনে রেখেছেন কজন? এমনকি কোনো দিন ইন্ডিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সের ফেলোও নির্বাচিত হননি তিনি। ভারতবর্ষের প্রথম নারী কণাপদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন বিভা চৌধুরী।
বিভা চৌধুরীর জন্ম ১৯১৩ সালে। তাঁর বাবা বঙ্কুবিহারী চৌধুরী পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ভান্ডারহাটির জমিদার ছিলেন চৌধুরীরা। বিভার মা ঊর্মিলা ছিলেন বাংলাদেশের বরিশালের মেয়ে। সমসাময়িক কালে ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুলের বিখ্যাত চিকিৎসক নীলরতন সরকার ছিলেন তাঁর পিসেমশাই। এমনকি বিখ্যাত পদার্থবিদ এবং পরবর্তীকালে বোস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর অধ্যাপক দেবেন্দ্রমোহন বসুও সম্পর্কে তাঁদের আত্মীয় ছিলেন। বিভাদের পরিবারে ব্রাহ্মধর্মের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। বঙ্কুবিহারীর পাঁচ কন্যা ও এক পুত্রের মধ্যে বিভা ছিলেন তৃতীয়। পরাধীন ভারতবর্ষে এমন একসময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যখন শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার পথ খুব একটা সুগম ছিল না। সমাজের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নারীরা সুগৃহিণী, আদর্শ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ির কর্ত্রী হয়ে উঠবেন—এটাই ছিল স্বাভাবিক। তবু সচ্ছল ও প্রগতিশীল পরিবারের সন্তান হওয়ায় বিভা কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন। উচ্চশিক্ষা ও পেশা বেছে নেওয়ার মতো স্বাধীনতা তাঁর ছিল। বিভার অন্য ভাইবোনেরা উচ্চশিক্ষিত এবং অদ্ভুতভাবে তাঁরা সবাই ছিলেন অবিবাহিত। তখনকার দিনে সমাজের সংখ্যালঘু হিসেবে ব্রাহ্মরা নিজেদের মধ্যেই বৈবাহিক সম্পর্কে স্থায়ী হতেন। হয়তো তাঁদের ভাইবোনদের অবিবাহিত থেকে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। বিভার স্বভাবচরিত্র ও বড় হয়ে ওঠাতে ছিল মা ঊর্মিলার প্রত্যক্ষ প্রভাব। নিজে ব্রাহ্ম পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছেলেমেয়েদের মধ্যেও সামাজিক উদারতা, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার বীজ বপন করেছিলেন ঊর্মিলা।
কলকাতার বেথুন স্কুলের শিক্ষা শেষ করে স্কটিশ চার্চ কলেজে পদার্থবিদ্যা অনার্স নিয়ে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন বিভা। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে পদার্থবিদ্যায় এমএসসি সম্পন্ন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ সহপাঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী। এরপর অধ্যাপক দেবেন্দ্রমোহন বসুর কাছে গবেষণা শুরু করেন তিনি। বিভার গবেষকজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয় এখানে। তবে নারী বলে প্রথম দিকে বিভাকে গবেষণা সহকারী হিসেবে নিতে রাজি ছিলেন না দেবেন্দ্রমোহন। প্রথম সাক্ষাতে তিনি সরাসরি বলে দিয়েছিলেন ‘নারীদের উপযুক্ত’ কোনো গবেষণার সুযোগ তাঁর কাছে নেই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অধ্যাপককে রাজি করাতে পেরেছিলেন বিভা।
দেবেন্দ্রমোহন তখন সায়েন্স কলেজে পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর মৃত্যুর পর বোস ইনস্টিটিউটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন দেবেন্দ্রমোহন। বিভাও বোস ইনস্টিটিউটে গবেষণায় যোগ দেন। ১৯৩৮ থেকে চার বছর এখানে গবেষণা করেছেন বিভা চৌধুরী। ফটোগ্রাফিক প্লেট ব্যবহার করে মেসন–জাতীয় মৌলিক কণার অস্তিত্ব আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। সে সময় নেচার বিজ্ঞান সাময়িকীতে পরপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন বিভা চৌধুরী ও দেবেন্দ্রমোহন বসু। ভিন্ন উচ্চতার দুই স্থানে ইলফোর্ড হাফটোন প্লেট রেখে মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব পরীক্ষা–নিরীক্ষার কাজ করেছিলেন তাঁরা। দুটি স্থানের একটি ছিল সান্দাকফু (উচ্চতা ১২ হাজার ফুট) এবং অন্যটি ফারিজং (উচ্চতা ১৫ হাজার ফুট)। ফটোগ্রাফিক প্লেটগুলো ডেভেলপ করার পর মাইক্রোস্কোপের নিচে নিয়ে বিভা বেশ কিছু বেঁকে যাওয়া পথ লক্ষ করলেন। এ পথগুলো গবেষকদের চেনা আলফা কণা বা প্রোটনের মতো একেবারেই নয়। উপযুক্ত গণনার পর তিনি বুঝলেন, এখানে দুই ধরনের কণার অস্তিত্ব রয়েছে—একধরনের কণার গড় ভর ইলেকট্রনের ভরের ২২১ গুণ এবং অন্য কণার গড় ভর ইলেকট্রনের ভরের ২৭৮ গুণ। বেশি উচ্চতায় বেশি ভরের কণা শনাক্ত করেছিলেন তাঁরা। তাই সিদ্ধান্তে আসেন, কম উচ্চতার যেসব হালকা কণা পাওয়া যায়, সেগুলো সম্ভবত বেশি উচ্চতার ভারী কণাদের ভাঙনের ফলে জন্ম নেয়।
তত দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। যুদ্ধের ডামাডোলে তাঁদের গবেষণায় প্রয়োজনীয় ফটোসেনসেটিভ ইমালশন প্লেটের সরবরাহ ঠিকমতো ছিল না। ফলে সব রকম গবেষণা ভীষণভাবে ব্যাহত হয়েছিল এবং উপযুক্ত ইমালশন প্লেটের অভাবে একসময় পুরোপুরি বন্ধই হয়ে যায়। দেবেন্দ্রমোহন ও বিভার গবেষণার ঠিক সাত বছর পর ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সেসিল পাওয়েল একই ফল পান। এমনকি সেই গবেষণায় মিউয়ন কণার ভাঙনের ফলে ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। ইলেকট্রন সংবেদনশীল C2 ও G5 প্লেট ব্যবহার করে এবং ভারতীয় গবেষকদের কৌশল প্রয়োগ করেই এ আবিষ্কার করেছিলেন পাওয়েল। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৫০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান তিনি।
বোস ইনস্টিটিউটের অপর্যাপ্ত সুযোগ–সুবিধা ছেড়ে ১৯৪৫ সালে বিদেশে চলে যান তিনি। যোগ দেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যাট্রিক ব্ল্যাকেটের তত্ত্বাবধানে মহাজাগতিক রশ্মিসংক্রান্ত গবেষণায়। পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক গবেষণায় তখন মহাজাগতিক রশ্মি বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রশ্মিতে উপস্থিত মৌলিক কণাদের খোঁজে সন্ধান চালাচ্ছিলেন অনেকেই। ব্ল্যাকেটের গবেষণাগারের এ সন্ধানকার্যে ডিটেক্টর হিসেবে ক্লাউড চেম্বার ব্যবহার করা হতো। মহাকাশ থেকে আসা মহাজাগতিক রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে যে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়, বিজ্ঞানের পরিভাষায় তাকে বলে ‘এক্সটেনসিভ এয়ার শাওয়ার’। এই এক্সটেনসিভ এয়ার শাওয়ার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিভা। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সেই সময়েই দ্য ম্যানচেস্টার হ্যারল্ড পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। ‘ভারতের নতুন নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে পরিচিত হোন: তিনি মহাজাগতিক রশ্মির দিকে তাকিয়ে আছেন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধটি লেখার সময় সাংবাদিক ব্রিজেট ম্যাক্সওয়েল বিভার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর গবেষণার কাজ চলাকালীনই প্যাট্রিক ব্ল্যাকেট পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (১৯৪৮ সালে) লাভ করেন। ম্যানচেস্টারে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা সেরে ভারতে ফিরে আসেন বিভা। বোম্বেতে হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার নেতৃত্বে তখন সবে পথচলা শুরু করেছে এক মৌলিক গবেষণাকেন্দ্র—টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (টিআইএফআর)। এ গবেষণাকেন্দ্রের জন্য একজন করিতকর্মা তরুণ গবেষকের সন্ধান করছিলেন ভাবা। বিজ্ঞানী জে এইচ উইলসনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান তিনি। উইলসন বিভা চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন। ম্যানচেস্টারে বিভার পিএইচডি থিসিসের পরীক্ষক ছিলেন উইলসন। ফলে এই তরুণী গবেষকের যোগ্যতা নিয়ে নিঃসন্দেহ ছিলেন তিনি। অচিরেই টিআইএফআর থেকে চাকরির প্রস্তাব যায় তাঁর কাছে।
১৯৪৯ সালে এই টিআইএফআরে প্রথম নারী গবেষক হিসেবে যোগ দেন বিভা। বছর সাতেক এখানে থাকার পর তিনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন। বছরখানেক বিদেশে কাটিয়ে তিনি ফিরে আসেন আহমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে (পিআরএল)। কর্মজীবনের অনেকটা সময় এখানে কাটিয়েছিলেন তিনি। এখানেই তাঁর পিএইচডি ছাত্র ছিলেন যোগেশ সাক্সেনা, যিনি পরে গুজরাটের গান্ধীনগরে ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চের অধ্যাপক হয়েছিলেন। নিজের প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করে তিনি লিখেছিলেন, ‘পিআরএলে রিসার্চ স্কলার হিসেবে কোর্স ওয়ার্কের সময় আমি ড. বিভা চৌধুরীকে প্রথম দেখি। তখন ১৯৬৪ সাল। উচ্চশক্তিসম্পন্ন কণা ও পদার্থের ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া নিয়ে পড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর পড়ানোর কৌশল ও দক্ষতা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।’
উচ্চমানের গবেষণার কাজকর্ম করলেও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশে আগ্রহী ছিলেন না বিভা চৌধুরী। তাঁর অধিকাংশ গবেষণা প্রকাশিত হতো ইন্ডিয়ান একাডেমির জার্নালে।
টিআইএফআরে এক্সটেনসিভ এয়ার শাওয়ারের পাশাপাশি ১৯৬০-এর দশকে ভারতের কর্ণাটকের কোলার জেলার পরিত্যক্ত সোনার খনিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০০ ফুট গভীরে নিউট্রিনো কণাসংক্রান্ত পরীক্ষা–নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এই কোলার গোল্ড মাইন এক্সপেরিমেন্টেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বিভা চৌধুরী। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, ভারতের রাজস্থানের মাউন্ট আবুতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি–সংক্রান্ত একটি নতুন পরীক্ষা–নিরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিক্রম সারাভাইয়ের সঙ্গে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সারাভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পিআরএল এ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে রাজি হয়নি। ফলে বিভা চৌধুরীর স্বপ্নেরও অপমৃত্যু ঘটে।
প্রচার, খ্যাতি ও স্বীকৃতির সম্পূর্ণ বিপরীতে পদার্থবিজ্ঞানের গভীর রহস্য উন্মোচনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। পুরুষপ্রধান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রটিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন বিভা। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর নিজের দেশেও এ পরিবর্তন আসুক। ম্যানচেস্টারে থাকার সময় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সাংবাদিক ম্যাক্সওয়েলকে বিভা বলেছিলেন, নারীরা পদার্থবিদ্যা নিয়ে আতঙ্কিত, এটাই সমস্যা। বর্তমানে নারী পদার্থবিদের সংখ্যা হাতে গোনা, যখন বিজ্ঞান, বিশেষ করে পদার্থবিদ্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের পারমাণবিক শক্তি নিয়েও পড়াশোনা করা উচিত, নয়তো তাঁরা বুঝতেই পারবেন না, কী করে এটা কাজ করে এবং এর ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো মতামত দেবেন কী করে? সাংবাদিকের আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এক্সটেনসিভ এয়ার শাওয়ারস নিয়ে থিসিস শেষ করার কয়েক মাস পরই হয়তো তাঁর ডক্টর অব ফিলসফি সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপরই কলকাতায় ফিরে আসবেন তিনি, চালিয়ে যাবেন গবেষণা।
সত্যি, শেষজীবনে ফিরে এসেছিলেন নিজের শহর কলকাতায়। যোগ দিয়েছিলেন সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিকসে। ১৯৯১ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত এখানেই গবেষণা করে যান তিনি। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ১৯৯০ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ফিজিকস–এ প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর লেখা শেষ গবেষণা প্রবন্ধ। কিন্তু তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পেরেছেন কি দেশের তরুণ গবেষকেরা, বিশেষ করে নারীরা?
লেখক: শিক্ষক, রসায়ন বিভাগ, শ্রীরামকৃষ্ণ বয়েজ হাইস্কুল, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
সূত্র: রাজিন্দার সিং ও সুপ্রকাশ সি. রায়/আ জুয়েল আনআরর্থেড: বিভা চৌধুরী, শাকের ভারলাগ জিএমবিএইচ, ২০১৮;
রায়চৌধুরী/ দ্য রুট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব প্রিন্সিপাল ফিজিকস অব ইনডিয়া, স্প্রিঞ্জারব্রিফস ইন হিস্ট্রি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
doi.org/10.1007/978-3-030-80306-3_7