অলিম্পিক
ভবিষ্যতে মানুষ আর কত দ্রুত দৌড়াতে পারবে
ইতিহাস বলছে, মানুষ প্রতিনিয়ত আরও দ্রুত দৌড়াচ্ছে। কতটা দ্রুত দৌড়াতে পারবে মানুষ? সর্বনিম্ন কত সেকেন্ডে অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ানো সম্ভব হবে? সাঁতারে কেন দৌড়ানোর চেয়ে বেশি সময় লাগে?
আধুনিক অলিম্পিক শুরু হওয়ার পর থেকে দিন যত যাচ্ছে, মানুষ তত দ্রুত দৌড়াচ্ছে। প্রথম আধুনিক অলিম্পিক শুরু হয়েছে ১৮৯৬ সালে। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের টম বার্ক ১২ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হয়েছিলেন। তার চার বছর পরেই ফ্রাঙ্ক জার্ভিস সময় নেন ১১ সেকেন্ড। ১৯০৮ অলিম্পিকে ১০.৮ সেকেন্ড, ১৯৬৪ সালে ১০ সেকেন্ড, ১৯৬৮ সালে ৯.৯৫ সেকেন্ড ও ২০১২ সালে ৯.৬৩ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করেন জ্যামাইকান অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। তবে ২০০৯ সালে তিনি মাত্র ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়েছিলেন। এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম সময়ে ১০০ মিটার দৌড়ানোর রেকর্ড। এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত মানুষ আরও দ্রুত দৌড়াচ্ছে। প্রশ্ন হলো, আর কত কম সময়ে মানুষ ১০০ মিটার দৌড়াতে পারবে? সাঁতারেও একই প্রশ্ন করা যায়। চলুন বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করি।
সম্প্রতি শেষ হলো ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক। ৯.৭৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক পেয়েছেন যুক্তুরাষ্ট্রের নোয়াহ লাইলস। হয়তো ভবিষ্যতে এই সময় আরও কমিয়ে আনবেন অ্যাথালেটরা। কিন্তু সাঁতারে ১০০ মিটার ও ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো নতুন রেকর্ড হয়নি। সাঁতারে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে পুরুষদের বিশ্বরেকর্ডটি সিজার সিয়েলো ফিলহোর। ২০০৯ সালে ২০.৯১ সেকেন্ডে তিনি ৫০ মিটার সাঁতরেছিলেন। যা উসাইন বোল্টের দৌড়ানোর রেকর্ড থেকে প্রায় ৪ গুণ ধীরগতির।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সর্বোচ্চ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ সে হিসেবে ১০০ মিটার দৌড়াতে লাগে ৬.৬২৫ সেকেন্ড।
অর্থাৎ দৌড়ানোর চেয়ে সাঁতার ধীর। কারণ, বাতাসের চেয়ে পানির ঘনত্ব অনেক বেশি। যত দ্রুত বাতাস ভেদ করে এগিয়ে যাওয়া যায়, পানি ভেদ করে তত দ্রুত এগোনো যায় না। ফলে কত দ্রুত ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে মানুষ সাঁতরাতে পারবে, তা স্পষ্ট করে বলা কঠিন। কিন্তু কত দ্রুত দৌড়াতে পারবেন, তা অনুমান করা যায়।
মানুষ কত দ্রুত দৌড়াতে পারবে তা নির্ভর করে পেশিশক্তির ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সর্বোচ্চ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। অর্থাৎ সে হিসেবে ১০০ মিটার দৌড়াতে লাগে ৬.৬২৫ সেকেন্ড। কিন্ত এখনো মানুষের পক্ষে দ্রুততম দৌড়ের রেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডের। এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবেন কি না, তা এখনোই বলা মুশকিল। তবে ইতিহাস বলছে, প্রতিনিয়ত মানুষ আরও দ্রুত দৌড়ানো শিখেছে।
কে কতটা দ্রুত দৌড়াতে পারবে তা পেশিশক্তির পাশাপাশি টেকনিকের ওপরও নির্ভর করে। দৌড়ানোর সময় পা কতটা কম সময়ে মাটি স্পর্শ করে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, মানুষ কেন এখনো সবচেয়ে কম সময়ে মানে ৬.৬২৫ সেকেন্ডে দৌড়াতে পারলো না। এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেকানিক্স রস মিলার। তাঁর মতে, ‘৬.৬২৫ সেকেন্ডে দৌড়াতে না পারার কারণ, মানুষ একনো সঠিক টেকনিক ব্যবহার করতে পারছে না। অথবা এত দ্রুত দৌড়ানোর জন্য যেরকম শারীরিক সক্ষমতা দরকার, তা অলিম্পিকের অ্যাথলেটদের নেই। কিংবা এটাও হতে পারে, যার এমন শারীরিক সক্ষমতা আছে, সে দৌড়ায় না।’
মিলারের কথা মতো কোনো মানুষ পাওয়া গেলে, এবং সে যদি সঠিক টেকনিক ব্যবহার করে দৌড়ায়, তাহলে হয়ত ১০০ মিটারের দৌড়ে ভবিষ্যতে আরও নতুন রেকর্ড দেখতে পারবে পৃথিবীবাসী।
