আচ্ছা ধরো, ৬৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূর থেকে যদি কোনো এলিয়েন শক্তিশালী কোনো টেলিস্কোপ দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকায়, তাহলে কী দেখবে?
কী দেখবে?
দেখবে, পৃথিবীতে বিশালাকার সব ডাইনোসরের যুগ চলছে। তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবী।
কেন?
বাহ্, আলোর গতি ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল, এই বেগে আলো ৬৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের এলিয়েনের চোখে পড়বে, তারপর না সে দেখব। যেহেতু তখন ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসর ছিল, তাই সে সেটাই দেখবে। কেন, তুমি জানো না রাতে আমরা যে তারা দেখি, বাস্তবে সেটা হয়তো এখন আর নেই...সেই একই প্রেক্ষাপটে...
আচ্ছা আচ্ছা, বুঝলাম। বলল মেয়েটা। কথা হচ্ছিল কলেজে পড়ুয়া একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ঢাকা শহরে তাদের পাশাপাশি বাসা। দুজনের মুখোমুখি বারান্দায় দাঁড়িয়েই দিব্যি কথা বলা যায় (অবশ্য গার্জেনদের চোখ এড়িয়ে)।
আচ্ছা এবার ধরো, আলোর গতি ১ কোটি ৮৬ হাজার মাইল, তাহলে এলিয়েনটা তার টেলিস্কোপে কী দেখবে?
কী দেখবে?
হিসাব করে বলা একটু মুশকিল, তারপরও ধরে নিলাম তখন তারা দেখবে পৃথিবীতে হিমশীতল বরফযুগ চলছে!
আচ্ছা।
এখন ধরো, আলোর গতি ৫ কোটি ৬৮ হাজার মাইল, তাহলে এলিয়েনটা তার টেলিস্কোপে কী দেখবে?
কী দেখবে?
ধরে নিলাম, দেখবে নিয়ানডারথেল মানুষের যুগ চলছে পৃথিবীতে।
আচ্ছা।
এখন ধরো, আলোর গতি ১০ কোটি ৬৮ হাজার মাইল, তাহলে এলিয়েনটা তার টেলিস্কোপে কী দেখবে?
কী দেখবে?
দেখবে আধুনিক পৃথিবী, হয়তো দেখবে আমাদের এই ঢাকা শহর...মেট্রোরেলের পাশেই তোমার আমার পাশাপাশি বাসাটা।
উফ্! মেয়েটা এবার বিরক্ত হয়ে গেল। ‘কিন্তু তুমি আলোর গতি কোন আক্কেলে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল থেকে ১০ কোটি ৮৬ হাজার মাইলে চলে গেলে? হোয়াই!
ছেলেটাও এবার বিরক্ত হয়ে প্রায় চিত্কার করে উঠল, ‘কী করব, এলিয়েনটাকে তো আমার বাসার বারান্দার দেয়ালটা দেখতে হবে নাকি? তুমি তো দেখছই না!’
মেয়েটা এবার ছেলের বাসার বারান্দার দেয়ালের দিকে তাকাল, দেখে, সেখানে চক দিয়ে বড় বড় করে লেখা, ‘আই লাভ রেনু’; ইয়ে...মেয়েটার নাম রেনু।
লেখক: কার্টুনিস্ট; সম্পাদক, উন্মাদ