অন্ধকারের গতি

আলোর গতিবেগ কত? আমরা জানি, সেকেন্ডে এক লাখ ছিয়াশি হাজার মাইল। কিন্তু অন্ধকারের গতিবেগ কত, তা কি কখনো ভেবে দেখেছি? এক বিজ্ঞানমনস্ক আড্ডায় বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিল। একজন তখন বলল, বিষয়টা নির্ভর করছে পাত্রপাত্রীর ওপর।

মানে? অন্ধকারের গতির মধ্যে আবার পাত্রপাত্রী এল কেন?

তা-ও বুঝলে না? ধরো, একটা ঘরে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে গল্প করছে। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেল, মানে আলো এক লাখ ছিয়াশি হাজার মাইল বেগে ওই ঘর ত্যাগ করল! এখন অন্ধকার ওই ঘরে কত মাইল বেগে ঢুকল? সেটা নির্ভর করবে ঘরের পাত্রপাত্রী, তাদের চরিত্র, স্থান আর পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর।

আর বিষয়টা যদি ঘটে এলিয়েনদের ক্ষেত্রে?

এটা বিবেচনায় নেওয়ার আগে আপনাকে বুঝতে হবে এলিয়েনরা আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের ‘গ্রে ম্যাটারের’ ওপর তাদের আস্থা কতখানি?

সেটা বুঝতে হলে কোনো একটা ‘এলিয়েন সিচুয়েশনে’ ঢুকতে হবে। ধরা যাক, পৃথিবীতে সসারে করে দুটো এলিয়েন ঢুকেছে। তারা মানুষের চরিত্র বোঝার জন্য প্রথমে বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে এমন একটা আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং পর্যবেক্ষণ করল। তারপর তৈরি হওয়া একটা বিল্ডিংয়ের ঘুলঘুলি দিয়ে উঁকি দিল? কিছুক্ষণ দেখল মানুষদের, বিল্ডিংয়ের ভেতর তাদের চলাফেরা। তারপর একজন আরেকজনকে বলল, বুঝলে পৃথিবীর এই মানুষগুলো আসলে বোকা।

কীভাবে বুঝলে তুমি? দ্বিতীয় এলিয়েন জানতে চায়।

কেন দেখছ না এরা কত কষ্ট করে বিল্ডিংয়ের সিলিং তৈরি করে। তারপর সারাক্ষণ হাঁটে মেঝে দিয়ে!

আরেকটা বিষয় খেয়াল করেছ?

কী?

ওরা যখন মেঝে দিয়ে হাঁটছিল, তখন ওদের ঘরে হঠাৎ অন্ধকার এক লাখ ছিয়াশি হাজার মাইল বেগে ঢুকল!

হ্যাঁ, এটাকে ওরা বলে লোডশেডিং! কিন্তু তোমার হাতে ওটা কী?

ডাক্তার সাহেব, আমি ক্লিপটোম্যানিয়াক রোগী। না বলে এটা-সেটা চুরি করি। প্লিজ, আমাকে ভালো করে দিন।

এটা একটা ‘ডার্ক পেনিট্রেটার’। ওরা অবশ্য বলে টর্চ। জিনিসটা একটু বুঝতে হবে আমাদের।

কিন্তু এভাবে না বলে কিছু নেওয়া কিন্তু ক্লিপটোম্যানিয়াক স্বভাব।

তা জানি, তবে উপায় কী? গবেষণার জন্য অনেক কিছুই করতে হয় আমাদের। বলে তারা চলে গেল সসারে করে। ফের আমরা ফিরে আসি মানুষের কাছে...না ওই আলো-অন্ধকার নিয়ে বিজ্ঞান আড্ডায় নয়। এবার মানুষের ক্লিপটোম্যানিয়া বোঝা দরকার। ডাক্তারের কাছে গেছে এক ক্লিপটোম্যানিয়াক রোগী।

ডাক্তার সাহেব, আমি ক্লিপটোম্যানিয়াক রোগী। না বলে এটা-সেটা চুরি করি। প্লিজ, আমাকে ভালো করে দিন।

ডাক্তার একটা ওষুধ দিল, বলল, সাত দিন এই ওষুধটা নিয়ম করে খাবেন। ভালো হয়ে যাবেন, তবে...

তবে?

ডাক্তার এবার গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, শেষ একটা চুরি করতে হবে আপনাকে, ৩২ ইঞ্চি কার্ভ টিভি। আমার বাসার টিভিটা নষ্ট কি না!