জিনোম সিকোয়েন্স!

দুই ছেলের পর শেষ বয়সে ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে মোতালেব সাহেবের। মেয়ের একটা সুন্দর নাম দিয়ে আকিকা না করলেই নয়। তো মেয়ের আকিকার জন্য বাবা একদিন গেলেন ছাগল কিনতে। গ্রেট বেঙ্গল ছাগল কিনবেন বলে বের হলেন। কারণ, এই ছাগলের জিনম সিকোয়েন্স বাংলাদেশের জিনবিজ্ঞানীরা বের করে ফেলেছেন। কিন্তু কী আশ্চর্য, ফিরলেন একটা ইলিশ কিনে।

সে কী! ছাগল কিনতে গেলে, ফিরলে ইলিশ নিয়ে! ইলিশ দিয়ে কি আকিকা হয় নাকি? স্ত্রী হতভম্ব!

দেখো না কী করি, তোমার ছাগল হলেই তো হলো?

মানে কী?

দেখো এই ইলিশই ছাগল হয়ে উঠবে ১৫ হাজার টাকার ছাগল ১ হাজার টাকার ইলিশ দিয়েই হয়ে যাবে!

মানে কী বলছ আবোলতাবোল?

কেননা জানো না বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা ছাগলের জিনম সিকোয়েন্স যেমন বের করেছেন, ইলিশের জিনম সিকোয়েন্সও বের করেছেন। এখন এই ইলিশের জিনম সিকোয়েন্সে ঢুকে এর ডিএনএতে সামান্য একটু পরিবর্তন করলেই দেখবে এই ১ হাজার টাকার ইলিশ ১৫ হাজার টাকার গ্রেট বেঙ্গল ছাগল হয়ে উঠবে!

উফ...! স্ত্রী হতাশ হয়ে মাথার চুল খামচে ধরলেন। চিত্কার করে বললেন, ‘বাংলাদেশের বিজ্ঞানী পাটের জিনম সিকোয়েন্সও বের করেছেন! জলদি আমাকে পাটের তৈরি দড়ি এনে দাও!’

কেন?

আর কেন, আমি গলায় দড়ি দেব।

এ তো নেহাত জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে দেশীয় ফান। এবার একটু বিদেশি ফান করা যাক—

মি. জোন্সের হঠাৎ কী খেয়াল হলো, ভাবলেন তাঁর একটা ডিএনএ টেস্ট করলে কেমন হয়? নিজের জিনোম সিকোয়েন্স জানতে পারলে মন্দ কী? টেস্ট করালেন এবং টেস্ট করে টের পেলেন তিনি এত দিন ধরে যাদের মা–বাবা বলে জানেন, তাঁরা আসলে তাঁর মা–বাবা নন। তিনি ছুটে গেলেন তাঁর মা–বাবার কাছে—

ডিএনএ টেস্ট করে জানতে পারলাম আমি তোমাদের ছেলে নই।

মি. জোন্সের বৃদ্ধ মা চিত্কার করে উঠলেন, ‘কী বলছ এসব?’

ও ঠিকই বলছে। বৃদ্ধ বাবা মাথা নাড়েন, ‘ও আসলে আমাদের সন্তান নয়।’

কিন্তু কীভাবে?

কেন, তোমার মনে নেই? ওর জন্মের পর যেদিন আমরা ওকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসছিলাম তখন ও বাথরুম করে দিল আর তুমি বললে, ‘বদলে আনতে।’

স্ত্রী চিত্কার করে উঠল, ‘হায় ঈশ্বর, আমি তোমাকে ডায়পার বদলাতে বলেছিলাম!’