বাল্বের প্যাঁচ!

বসার ঘরের বাল্বটা দুই দিন ধরে ফিউজ। তাই এক করোনা–সন্ধ্যায় বাল্ব কিনতে বেরোলেন সামাদ সাহেব। ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বিক্রি করে এমন একটা দোকানে ঢুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ বাল্ব আছে?’

-আছে, প্যাঁচের বাল্ব?

-মানে?

-মানে, এখন তো সব বাল্বই প্যাঁচের বাল্ব। সামাদ সাহেব আশ্চর্য হলেন। বাল্বেও প্যাঁচ ঢুকে গেছে? সব বাল্বে প্যাঁচ? এর মানে কী? কিছু মানুষের পেটে প্যাঁচ আছে আর আছে জিলাপির প্যাঁচ...তাই বলে বৈদ্যুতিক বাল্বে প্যাঁচ? টমাস আলভা এডিসন বেঁচে থাকলে কী করতেন? সামাদ সাহেব কল্পনায় টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে সওয়াল–জবাব শুরু করে দিলেন...

-জনাব এডিসন সাহেব, আপনি কি জানেন যে আপনার বাল্বে প্যাঁচ ঢুকে গেছে?

-কী বলছেন এসব? আমি তো বাল্বের ভেতরে একটা প্যাঁচানো টাংস্টেন তার ঢুকিয়েছিলাম, যেটা জ্বলে উঠলে আলো ছড়াত; কিন্তু তুমি কোন প্যাঁচের কথা বলছ হে?

-আরে, সেই প্যাঁচ নয়, বাল্বের গোড়ায় প্যাঁচ, জিলাপির মতো...

-জিলাপি কী? বিজ্ঞানী এডিসন জানতে চান। কী জ্বালা! এখন ওনাকে জিলাপি বোঝাও। সামাদ সাহেব হাল ছাড়লেন না, বললেন ‘জিলাপি হচ্ছে একধরনের প্যাঁচানো মিষ্টিজাতীয় খাবার। মোটা–চিকন দুই পদেরই আছে। মোটাটা দেড় শ টাকা কেজি, চিকনটা আড়াই শ। রমজানের সময় অবশ্য দাম ডাবল হয়ে যায়।’

-কী বলছ এসব? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাল্ব আবিষ্কারক বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের ভ্রু কুঁচকে যায়।

-আমি বুঝতে পারছি। পেছন থেকে তৃতীয় একজন কে কথা বলে ওঠে। দুজনই ঘুরে দেখেন, বিজ্ঞানী টেসলা দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছেন।

-তুমি টেসলা না? এডিসন বিস্ময় প্রকাশ করেন!

-হ্যাঁ, আমি টেসলা, কিছুদিন আপনার সঙ্গে কাজ করেছিলাম।

-তা বাল্বের প্যাঁচ বলতে তুমি কী বুঝলে, বলো তো? এই লোকটা তখন থেকে কী সব বলছে...

-খুবই সহজ ব্যাপার। আপনার মনে আছে, এসি কারেন্ট আর ডিসি কারেন্ট নিয়ে আপনি আমার সঙ্গে কী করেছিলেন? সেটাই হচ্ছে ‘প্যাঁচ’!

বাস্তবে ফিরে এলেন সামাদ সাহেব। একটা ৬০ পাওয়ারের প্যাঁচওলা বাল্ব কিনে বাসার পথ ধরলেন।

লেখক: কার্টুনিস্ট, সম্পাদক, উন্মাদ