১৮৯৮ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী মিলার রিজ হচিসন কানে শোনার একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যেটাকে আমরা ‘হিয়ারিং এইড’ নামে চিনি। বলা বাহুল্য, খুবই দরকারি জিনিস, যাতে কার্বন ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা হয়েছিল, যেটা শব্দের দুর্বল সিগন্যালকে বড় করে ডেলিভারি দিতে পারে। যাঁরা কানে কম শুনতে পান, তাঁদের জন্য এই জিনিস অতি জরুরি। জিনিসটা তো আবিষ্কার হলো, কিন্তু এটার প্রচার দরকার। বিজ্ঞানী মিলার নিজের দেশে জিনিসটার খুব একটা গতি করতে পারলেন না বলে তিনি ইউরোপের দিকে নজর দিলেন। তিনি ঠিক করলেন, ইউরোপের রাজপরিবারের কাউকে গছাতে পারলে প্রচারটা জায়গামতো হবে।
তিনি লাইনঘাট করে ডেনমার্কের রানি আলেকজান্দ্রাকে একটা হিয়ারিং এইড গছাতে পারলেন। রানি কানে কম শুনতেন। বলা বাহুল্য, তিনি যথেষ্ট খুশি হলেন। কদিন পর মিলার রিজ গেলেন রানির কাছে জিনিসটা কেমন কাজ করছে জানতে।
‘আপনি নিশ্চয়ই এখন ভালো শুনতে পাচ্ছেন হার হাইনেস?’
‘অবশ্যই, আমি খুবই খুশি। খুবই কাজের জিনিস এটা।’
‘আপনার আত্মীয়স্বজনেরাও নিশ্চয়ই খুশি? আপনি এখন কানে শুনতে পাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিক্রিয়া কী?’
‘আমি তাঁদের কাউকে বিষয়টা বলিনি যে আমি এখন “হিয়ারিং এইড” ব্যবহার করছি এবং সবকিছু শুনতে পাচ্ছি।’
‘সে কী, কেন?’
‘ওদের সব কথাবার্তাই শুনছি...এবং ইতিমধ্যে আমি তিন তিনবার আমার উইল বদলেছি।’ রানি গম্ভীর হয়ে জানালেন।
মিলার রিজ হচিসনের সময় থেকে বর্তমান সময়ে আসি। বর্তমান সময়ের এক স্বামীর ধারণা হলো তাঁর স্ত্রী কানে কম শোনেন। তাঁকে একটা হিয়ারিং এইড কিনে দেওয়া জরুরি। বিষয়টা বুঝতে তিনি এক নাক-কান-গলার চিকিত্সকের কাছে গেলেন।
‘আমার স্ত্রীর একটা হিয়ারিং এইড দরকার।’
‘কী করে বুঝলেন আপনি সেটা?’
‘তাকে একবার কিছু বললে সে উত্তর দেয় না, দ্বিতীয়বার বলতে হয়।’
‘এভাবে আসলে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আপনি আজ বাসায় গিয়ে প্রথমে ১৫ ফুট দূর থেকে আপনার স্ত্রীকে কিছু জিজ্ঞেস করুন। না শুনলে ১০ ফুট দূরত্ব থেকে ওই একই প্রশ্ন করুন, না শুনলে ৫ ফুট দূরত্ব থেকে আবার ওই একই প্রশ্ন করুন...যে দূরত্ব থেকে তিনি শুনতে পান, সেটা আমাকে জানান।’ চিকিত্সক বললেন।
বাসায় এসে স্বামী স্কেল দিয়ে মেপে ১৫ ফুট দূর থেকে স্ত্রীকে বললেন, ‘আজ রাতের মেন্যু কী?’ স্ত্রী কিছু বললেন না। স্বামী এবার এগিয়ে এসে ১০ ফুট দূর থেকে বললেন ‘আজ রাতের মেন্যু কী?’ এবারও স্ত্রী কিছু বললেন না। স্বামী এবার ৫ ফুট দূর থেকে বললেন, ‘আজ রাতের মেন্যু কী?’ এবার স্ত্রী রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘এই নিয়ে তিন তিনবার বললাম—চিংড়িভর্তা, কচুর লতি, ডাল আর ভাত...কানে শুনতে পাও না নাকি?’
বলা বাহুল্য, এরপর স্ত্রী নয়, স্বামীই সিমেন্স কোম্পানির একটা ‘হিয়ারিং এইড’ ব্যবহার করতে শুরু করলেন।
লেখক: কার্টুনিস্ট, সম্পাদক, উন্মাদ