বিজ্ঞানীদের ভুলোমনের অনেক গল্প আছে। বিশেষ করে আইনস্টাইনের ভুলোমনের গল্পের তো শেষ নেই। সেই একটা গল্প তো খুবই কমন। তিনি বাসে করে যাচ্ছিলেন, টিকিট চেকার টিকিট চাইল, তিনি দেখেন পকেটে টিকিট নেই। টিকিট চেকার বলল, ‘ঠিক আছে লাগবে না, আপনাকে আমরা চিনি।’
আইনস্টাইন বললেন, ‘তোমার না লাগলেও আমার লাগবে। কারণ, ওই টিকিটেই আমার হোটেলের নাম লেখা আছে। হোটেলে ফিরতে হবে না?’ তার মানে তিনি হোটেলের নাম ভুলে গেছেন।
কিংবা সেই গল্পটা, তিনি বাসায় গিয়ে বেল চাপলেন—স্ত্রী ভেতর থেকে চেঁচালেন, ‘আলবার্ট বাসায় নেই।’ সঙ্গে সঙ্গে আইনস্টাইন ফিরে চললেন। তিনিই যে আলবার্ট, সেটাও ভুলে গেছেন!
তবে আজ আমরা বরং ‘অবিজ্ঞানীদের’ ভুলোমনের গল্প শুনি একটা। যখনকার কথা বলছি, তখন বাজারে নতুন একটা হেডফোন এসেছে। যারা ভুলোমন, মানে যারা সবকিছু ভুলে যায়, তাদের জন্য এই অত্যাধুনিক হেডফোন।
অনেকের কানেই আজকাল এই ‘ভুলোমন হেডফোন’ দেখা যাচ্ছে। তো এক সেলুনে এক লোক চুল কাটাতে এল। তার কানেও সেই ‘ভুলোমন হেডফোন’। নাপিত বলল—
—স্যার, এটা কি গান শোনার হেডফোন?
—না, ভুলোমন হেডফোন।
—ও হ্যাঁ, এটার কথা শুনেছি। স্যার, এটা খুলে চুল কাটি?
—না না, আমার সমস্যা আছে। এটা থাক ওভাবেই চুল কাট। নাপিত কিঞ্চিত বিরক্ত হলো। কারণ, এই জিনিসটা কানে থাকলে তার চুল কাটার সমস্যা হবে। সমস্যাই হলো, অনেক কসরত করে চুল কাটতে হলো।
কিছুদিন বাদে ওই লোক আবার এল। এবারও তার কানে যথারীতি সেই ‘ভুলোমন হেডফোন’ লাগানো। এবং লোকটা জানাল, এটা খোলা যাবে না, এটা চুল কাটার সময় কানে থাকবে এবং সেই অবস্থাতেই চুল কাটতে হবে। নাপিত কী আর করবে, বিরক্ত হয়ে চুল কাটা শুরু করল। কিন্তু সত্যি সত্যি কানের আশপাশে চুল কাটা এবার খুব সমস্যা হচ্ছে। লোকটা করল কি, খুব সাবধানে লোকটাকে বুঝতে না দিয়ে আস্তে করে ভুলোমন হেডফোনটা খুলে ফেলল। তারপর দ্রুতই চুল কাটা শেষ করে ফের হেডফোন লোকটার কানে লাগানোর আগে নিজের কানে একটু দিল—কী বলে শোনার জন্য। তখন দেখে হেডফোনে বলা হচ্ছে, ‘শ্বাস নিন শ্বাস ফেলুন...শ্বাস নিন শ্বাস ফেলুন...শ্বাস নিন শ্বাস ফেলুন...শ্বাস নিন শ্বাস ফেলুন।’ আর ইয়ে...চুলকাটার সেই ভদ্রলোক ততক্ষণে ইহলোক ত্যাগ করেছেন মাত্র!
লেখক: কার্টুনিস্ট, সম্পাদক, উন্মাদ