একটা বাল্ব ফিউজ হয়ে গেলে আমরা কী করি? চট করে একটা চেয়ার বা টেবিল টেনে (ফোল্ডিং মইও হতে পারে) তার ওপর দাঁড়িয়ে ফিউজ বাল্বটি খুলে নতুন একটা বাল্ব লাগিয়ে দিই, দপ করে আলো জ্বলে ওঠে। ব্যাপারটা খুবই সিম্পল।
কিন্তু যদি বিজ্ঞানীদের বা বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই কাজ করতে দেওয়া হয়, তাহলে কী করবেন তাঁরা?
ধরা যাক, মহাজ্যোতির্বিদ কোপার্নিকাস যদি এই কাজটি করতেন, তাহলে কী হতো? মানে তিনি ঠিক কীভাবে কাজটা করতেন। বলাই বাহুল্য, তাঁর সময় কিন্তু এই বিদ্যুৎ বাল্ব আবিষ্কারই হয়নি। মাথায় রাখতে হবে, তিনি কিন্তু প্রথম ব্যক্তি, যিনি বলেছেন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপরও ঘোরে। এখন দেখা যাক, বিদ্যুৎ বাল্ব তিনি কীভাবে লাগান। কিছু না, তিনি হোল্ডারে বাল্বটি ঢুকিয়ে অপেক্ষা করতেন, মোচড় দিতেন না। কারণ, পৃথিবী তো ঘুরছেই, একসময় আপনিই লেগে যাবে বাল্বটি!
এবার একটু জেনারেলাইজ করা যাক।
একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার কীভাবে বাল্ব লাগাবেন?
তাঁরা বাল্ব লাগাবেন না। অন্ধকারেই বসে থাকবেন। কারণ, এটা হার্ডওয়্যার প্রবলেম, মোটেই তাঁদের কাজ নয়।
নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট বা ইঞ্জিনিয়ারদের যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা ৫১ জনের একটা টিম তৈরি করবেন। এর মধ্যে একজন বাল্বটি লাগাবেন। আর বাকি ৫০ জন ফিউজ বাল্বটি পরবর্তী ১০ হাজার বছরে কী কী সমস্যা তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করবেন।
কোয়ান্টাম ম্যাকানিকস নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁদের যদি বাল্ব লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে কতজন লাগবে? উত্তর হচ্ছে তিনজন। একজন বাল্বটা লাগাতে মই বেয়ে উঠবেন আর দুজন মই ধরে থাকবেন। বাল্বটা জ্বলে ওঠামাত্র তাঁরা মইটা টেনে সরিয়ে নেবেন। কারণ, প্র্যাকটিক্যালি আলোর কাছে পৌঁছানোর দরকার কী, যেখানে থিওরেটিক্যালি আলো তরঙ্গ এবং একই সঙ্গে কণা!
আর ডেটাবেইস নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা? হ্যাঁ, তাঁদের ক্ষেত্রেও তিনজন লাগবে। বাল্বটি লাগানোর আগে একজন ফিউজ বাল্বটি নিয়ে ‘রিমুভাল প্রোগ্রাম’ লিখবেন। অন্যজন নতুন বাল্বটির ‘ইনসারশন প্রোগ্রাম’ লিখবেন। আর তৃতীয়জন পাহারা দেবেন, যেন ওই ফাঁকে অন্য কেউ এসে বাল্বটি লাগিয়ে না ফেলে!
আর এই বিদ্যুৎ বাল্বটি যিনি আবিষ্কার করেছেন, সেই বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন, তাঁকে যদি বলা হয় ফিউজ বাল্বটি বদলে নতুন বাল্ব লাগাতে, তিনি কী করবেন? তিনি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। তারপর তাঁর সহকারীকে ডেকে বলবেন, ‘ওহে, পৃথিবীর প্রথম ফিউজ বাল্বটা যত্ন করে তুলে রাখো। একসময় এটা নিশ্চয়ই হাজার ডলারে নিলামে উঠবে!’
*লেখাটি ২০১৭ সালে বিজ্ঞানচিন্তার সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত