ভেড়ারু

এক লোকের ঘুম আসে না রাতে। সে গেল এক বিজ্ঞানীর কাছে।

আপনার ঘুম আসে না তো আমার কাছে কেন? ডাক্তারের কাছে যান।

সব ডাক্তার, কবিরাজ, পীর, ফকির দেখানো শেষ, ঘুম আসে না। তাই ভাবলাম শেষ চেষ্টা হিসেবে এবার একজন বিজ্ঞানীর কাছে যাই।

বিজ্ঞানী বলল (বিরক্ত হয়ে), ‘বাড়িতে গিয়ে ভেড়ার পাল গুনুন...ঘুম আসবে।’

সেই নির্ঘুম ব্যক্তি বাড়িতে ফিরে তা–ই করল। পরদিন আবার বিজ্ঞানীর কাছে গেল।

উফ...আপনি আবার এসেছেন?

স্যার, আপনার কথামতো ভেড়ার পাল গুনলাম। প্রায় এক মিলিয়ন ভেড়ার পাল গুনলাম, তারপরও ঘুম এল না।

কী আশ্চর্য ,আপনি এক রাতে এক মিলিয়ন ভেড়ার পাল গুনলেন!

জি, এক মিলিয়ন...

কীভাবে সম্ভব?

অবশ্য অত্যাধুনিক ক্যালকুলেটরের সাহায্য নিতে হয়েছে ভাগ করার সময়।

ভাগ করলেন মানে?

প্রথমে তো আমি ওদের পা গুনে ফেললাম। তারপর ক্যালকুলেটরের সাহায্য নিয়ে চার দিয়ে ভাগ করলাম, তাতেই এক মিলিয়ন সংখ্যাটা পেলাম। বোঝেন তো এত বড় অঙ্কের ভাগ, তাই ক্যালকুলেটরের সাহায্য নিতে হলো।

হতস্তম্ভিতমূঢ় (হতভম্ব + স্তম্ভিত + বিমূঢ়) বিজ্ঞানী কী বলবে, ভাষা হারিয়ে ফেলল। তখন নির্ঘুম ব্যক্তি গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘তবে দারুন এক আবিষ্কার করেছি, স্যার।’

আবিষ্কার?

জি। আবিষ্কারটা আমি করিনি, তবে আপনা–আপনিই হয়ে গেছে...ভাবলাম আপনার সঙ্গে শেয়ার করি।

কী আবিষ্কার?

শেষবার যখন ভেড়ার পাল গুনলাম, সেই পালে কিছু শজারু ঢুকে গেল। তারপর আর কী, প্রকৃতির নিয়মে নতুন একটা সংকর প্রজাতি তৈরি হয়েছে সেই পালে। ভেড়ারু! নামটা স্যার আমিই দিয়েছি।

ভেড়ারু?

জি, ভেড়ারু। ভেড়া আর শজারুর সংকর। এই ভেড়ারুর বাচ্চারা স্যার নিজেদের সোয়েটার নিজেরাই বুনতে পারে।

এই ঘটনার পর সেই বিজ্ঞানীরও আর রাতে ঘুম পায় না। জেগেই থাকে!

লেখক: কার্টুনিস্ট; সম্পাদক, উন্মাদ