আজ ১ জানুয়ারী, ২০৯৪। সারাদিন কেটে গেছে। এখন সারাদিনের ঘটনা ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে। এজন্য অবশ্য খাতা বা কলম কিছু লাগবে না। আমি এখন যে চেয়ারে বসা, সেটি ব্রেন পড়তে পারে। আমি চোখ বুজে সারাদিনের কথা মনে করব আর আমার কম্পিউটার তা অটোমেটিক টাইপ করবে।
আজ আমার ছেলে নাবিল মহাকাশ মিশন থেকে ফিরেছে। তার সঙ্গে মহাকাশ গবেষণা সম্পর্কে নানান কথা বলেছি।
আমি বললাম, ‘তোমার মিশন কেমন ছিল? তুমি যে গ্রহে গিয়েছিলে, সেটা কি বসবাসযোগ্য?’
নাবিল বলল, ‘হ্যাঁ, গ্রহটির নাম HAT2004। মানুষের বসবাসের উপযোগী। সেখানকার এলিয়েনরাও খুব বুদ্ধিমান।’
‘মানে? এলিয়েনদের সঙ্গে থাকবে মানুষ?’
‘হ্যাঁ, তবে এলিয়েনদের এতে কোনো সমস্যা নেই। ওই গ্রহে দুটি স্তর আছে। একটিতে থাকে এলিয়েনরা, অন্যটিতে থাকবে মানুষ।’
‘ভিনগ্রহীরা তাদের কোনো সমস্যার কথা তোমাকে বলেছে?’
‘হ্যাঁ।’
‘তুমি এলিয়েনদের সঙ্গে কথা বললে কীভাবে?’
নাবিল একটি বাক্স দেখিয়ে বলল, ‘ওই যে ছোট নীল বাক্সটা, ওটার নাম ল্যাংল্যাটোর (Langlator)। এ বাক্সটি আমরা মুখের সামনে রেখে কথা বলতাম। যন্ত্রটি সে কথাকে অনেকরকম সিগন্যালে ভাগ করে সাউন্ড তৈরি করত। সেই সিগন্যাল এলিয়েনরা বুঝত। আর এলিয়েনদের বলা কথা আমাদের ভাষায় পরিবর্তন করে দিত এ বাক্সটিই।’
‘আচ্ছা! এই এলিয়েনরা দেখতে কেমন? সিনেমা বা বইয়ে যেমন দেখি, সেরকম নাক বোচা টাইপের?’
‘না না। ওরা অনেকটা কাচের মতো। এক পাশ থেকে ওদের পেটে টর্চ মারলে অন্যপাশ দিয়ে আলো দেখা যায়।’
‘দুই স্তরের মধ্যে মানুষ থাকবে কোন স্তরে?’
‘নিচের স্তরে। ওপরের স্তরে থাকবে এলিয়েনরা। অনেকটা দোতলা বাসার মতো পুরো গ্রহটা।’
‘নিচে থাকলে তো আমরা সেখানকার সূর্যের আলো পাব না। ওপরের স্তরেই আলো আটকে যাবে।’
‘না না, সেরকম কোনো সমস্যা নেই। তাদের মতো ওই স্তরগুলোও কাচের। কাচ ভেদ করে সূর্যের আলো আসবে। আর সেখানে সূর্যও দুটি।’
‘তাহলে তো অনেক গরম হবে। পৃথিবীতে একটা সূর্যের আলোই তো সহ্য করা কঠিন।’
‘সে সমস্যার সমাধানও আছে। ওখানকার সূর্য দুটো পালাক্রমে ঘোরে। একটা ডুবলে অন্যটা ওঠে।’
‘তার মানে সেখানে রাত আসে না? কোনো চাঁদও নেই?’
‘কৃত্রিম রাত আছে। সুইচ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা স্তর ভেসে ওঠে আকাশে। স্তরটাও কাচের তৈরি। তবে এ কাচ ভেদ করে আলো আসতে পারে না। অন্ধকার হয়ে যায়। কৃত্রিম অন্ধকার। তিনটি চাঁদও আছে। তবে সূর্যের আলোর জন্য সেগুলো দেখা যায় না। চাঁদগুলোর নাম HATON01, HATON02, HATON03। আর সূর্য দুটোর নাম HAUN01, HAUN02।’
‘দারুণ তো! মানুষ সেখানে কবে যাবে?’
‘আগামী সপ্তাহে মিটিং আছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
চোখ খুলতেই দেখি কম্পিউটারের স্ক্রিনে সব লেখা হয়ে গেছে। আজকের ডায়েরি লেখা শেষ। এবার আমি ঘুমাব। আগামীকাল সকালে উঠে আজ রাতে দেখা স্বপ্নগুলোও স্ক্রিনে দেখতে পাব। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। রাতে যা স্বপ্ন দেখবেন, তাও রেকর্ড হয়ে যায় এই লাল হেলমেটটি মাথায় পরে ঘুমালে। এলিয়েনরা নাবিলকে এটা গিফট করেছে।
লেখক: শিক্ষার্থী, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট