অমূল্য জ্বালানি

সুমন ছাদে বসে আছে। রাত প্রায় ১১টা। বিদ্যুতের কোনো নামগন্ধ নেই। ঢাকা শহরে এমন ঘটনা দেখা যায় না বললেই চলে। সুমন আকাশের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধভাবে তারাগুলোকে দেখছে। এমন উজ্জ্বল তারা আগে কখনো দেখেনি। হয়তো আজকে বিদ্যুৎ নেই বলে তারাগুলোকে এত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। তখন সকালের কথা মনে পড়ে যায় ওর। স্কুলে ক্রিকেট খেলছিল সুমনরা। তখন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। সুমন একটা ছক্কা হাঁকিয়েছিল। সেই বল পড়ে মাঠের বাইরে একটা ছোট্ট ঝোপের মধ্যে। কিন্তু অনেক খুঁজেও বলটা আর পায়নি ওরা। একেবারে উধাও হয়ে গেছে।

বলটা কেন পাওয়া গেল না, সেটা নিয়ে ভাবছিল সুমন। হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর কানে এল ওর। ‘ক্রোমো-০০৮, ক্রোমো-০০৮...’

সুমন ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে, ‘কে?’

তখন ভোজবাজির মতো একটা লিলিপুট রোবট উদয় হয় ওর সামনে। সেটাকে দেখে ভড়কে যায় সুমন, ভয়ও পায়।

‘কে তুমি?’ ভীত গলায় বলে।

‘ভয় পেয়ো না ছেলে। আমার নাম ক্রোমো। আমি অন্য গ্রহ থেকে এসেছি।’

সুমন অবাক হয়। এলিয়েনদের কথা কত শুনেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এলিয়েনদের দেখা পায়নি কেউ। সুমন রোমাঞ্চিত হয়। বন্ধুদের এলিয়েনের গল্প বলতে পারবে।

‘আমাকে এই গ্রহে পাঠানো হয়েছে মানুষের ওপর গবেষণা করতে। কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট মহাকাশযানের ওপর গোলাকার কী যেন একটা পড়ে’, বলে একটা ক্রিকেট বল দেখায়।

সুমন বলটা চিনতে পারে। সকালে এটাই হারিয়ে গিয়েছিল ঝোপের ভেতর।

ক্রমো বলে, ‘সকালে এটাই আমার মহাকাশযানটাকে আঘাত করে। তাতেই ফেটে যায় মহাকাশযানের জ্বালানি ট্যাংক। নষ্ট হয়ে যায় সব জ্বালানি। জ্বালানি ছাড়া নিজের গ্রহে ফিরব কী করে বলো তো?’

সুমন বলল, ‘পৃথিবীতে তো জ্বালানি কম নেই। সেগুলো নিয়ে যেতে পারবে না?’ সুমনের ভয় তখন অনেকটাই কেটে যায়।

‘এটা কোনো সাধারণ জ্বালানি নয়, ছেলে। মহামূল্যবান জ্বালানি। ও জিনিস পৃথিবীতে মিলবে না।’

‘জ্বালানির নামটা জানতে পারি?’ সাহস করে বলে সুমন।

‘এইচটুও’, জবাবে বলে ভিনগ্রহী প্রাণীটা।

এইচটুও, মানে পানি! সেটা আবার মহামূল্যবান জ্বালানি। হাসি পায় সুমনের। খিক খিক করে হেসেও ফেলে।

‘হাসছ কেন, তুমি?’ ক্রমো নামের এলিয়েনটা বলে।

সুমন বলে, একটু অপেক্ষা করো তোমার মহামূল্যবান জ্বালানির ব্যবস্থা করছি। কিছুক্ষণ পর এক জগ পানি নিয়ে হাজির। লিলিপুট আকারের মহাকাশযানটার জন্য এতটুকু পানিই যথেষ্ট।

এলিয়েনটা অবাক হয়। বলে, ‘এত এইচটুও কোথায় পেলে?’

সুমনের আবার হাসি পেল। খিক খিক করে হেসে উঠল সে।

‘কিরে, তুই এখানে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো হাসছিস কেন? ঘরে চল। রাত সাড়ে ১২টা বাজতে চলল। ঘুমাবি না?’ মা এসে তাড়া দেয় সুমনকে।

‘আসছি মা,’ বলে ক্রমোকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু এলিয়েনটা ততক্ষণে অদৃশ্য হয়ে গেছে। সুমনের জগটা খালি। এক ফোঁটা পানিও তাতে নেই।

লেখক: শিক্ষার্থী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ, কুমিল্লা