এই ধরনের তরঙ্গের অস্তিত্ব যে আছে, তা নিয়ে ভূ-পদার্থবিদরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন। তবে, তাত্ত্বিকভাবে এই তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য যে সময় লাগার কথা, বাস্তবে তেমনটা হয়নি। নতুন এই গবেষণায় তরঙ্গ সঞ্চালনের সময় বেশ কম পাওয়া গেছে।

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে চুম্বকক্ষেত্র পরিমাপ করার সময়, এই তরঙ্গের উপস্থিতি টের পান বিজ্ঞানীরা। কিন্তু, শুধু ভূপৃষ্ঠ থেকে চুম্বকীয় তরঙ্গটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। এই সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম উপগ্রহের ডাটা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

গবেষক দলের প্রধান ও ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি গ্রেনোবল আলপেসের ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী নিকোলাস জিলেট এ প্রসঙ্গে বলেন, ‌‘আমরা এসার সোয়ার্ম মিশন থেকে স্যাটেলাইটের পরিমাপ করা তথ্যগুলো একত্রিত করেছি। পাশাপাশি জার্মান চ্যাম্প মিশন এবং ড্যানিশ ওআরস্টেড মিশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। জিওডায়নামোর একটি কম্পিউটার মডেলের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেছি। অবশেষে আমরা এই চুম্বকীয় তরঙ্গ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছি।’

পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক আগ্রহের বিষয়। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি, পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমণ্ডলের বাইরে চুম্বকক্ষেত্রের একটা সুরক্ষা বলয় রয়েছে। যেটা মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে পৃথিবীর জীবনকে নিরাপদ রাখে।

তবে, এই চুম্বকক্ষেত্রটি স্থির নয়। এর শক্তি, আকার ও আকৃতি সবকিছুই কম বেশি হয়। পাশাপাশি এই চুম্বকক্ষেত্রের এমনকিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা আমরা বুঝতে পারি না। চুম্বকক্ষেত্রটি আবার সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেন এমন হচ্ছে সেটাও আমাদের অজানা। পৃথিবী কেন্দ্রকে এই চুম্বকক্ষেত্রের উৎপত্তিস্থল বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কী ঘটছে সেটা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাগনেটো-কোরিওলিস তরঙ্গ নামে পরিচিত এই তরঙ্গগুলি পৃথিবীর ঘূর্ণায়মান অক্ষ বরাবর সারিবদ্ধ বিশাল চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করে। এই চুম্বকক্ষেত্র বিষুবরেখায় সবচেয়ে শক্তিশালী।

এই তরঙ্গগুলো পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায়, ঘুর্ণনের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাগনেটো-কোরিওলিস তরঙ্গ থাকতে পারে। তবে, তথ্যের অভাবের কারণে আমরা এখনো সেগুলো শনাক্ত করতে অক্ষম। এজন্য আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন