একটি শ্বেতবামন ও সাধারণ নক্ষত্র কাছাকাছি থাকলে নক্ষত্র থেকে হাইড্রোজেন শুষে নিতে পারে শ্বেতবামন। এই শুষে নেওয়া হাইড্রোজেন শ্বেতবামনের পৃষ্ঠে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ঘটায় বিশাল বিস্ফোরণ, যা সুপারনোভা বিস্ফোরণ নামে পরিচিত। এ ধরনের বিস্ফোরণগুলো শ্বেতবামনে পৃষ্ঠজুড়ে ঘটে। ফলে কয়েক সপ্তাহের অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হয়ে থাকে নক্ষত্রটি। কিন্তু নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (টেস) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার সময় অদ্ভুত এক উজ্জ্বলতার দেখা পায় গবেষক দলটি। যেটা স্থায়ী ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পরবর্তী সময়ে ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা নিশ্চিত হয়, এটা একদমই নতুন একধরনের নোভা বিস্ফোরণ। এ ধরনের বিস্ফোরণ আগে কখনো শনাক্ত করা যায়নি। শ্বেতবামনের পৃষ্ঠের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলজুড়ে খুবই অল্প সময়ের জন্য হয় বিস্ফোরণটি।

গবেষণাটির সহ-লেখক নেদারল্যান্ডসের রাডবুড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী পল গ্রুট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা দেখলাম যে হাইড্রোজেন ফিউশনও ঘটতে পারে স্থানীয়ভাবে। শ্বেতবামনের চৌম্বকীয় মেরুর গোড়ায় কিছু হাইড্রোজেন জ্বালানি থাকতে পারে। যে কারণে ফিউশন ঘটে এই চৌম্বকীয় মেরুতে। ফলে মাইক্রো ফিউশন বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তৈরি হয় নোভা বিস্ফোরণ শক্তির প্রায় এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ বিস্ফোরণ। এ জন্যই এর নাম দেওয়া হয়েছে মাইক্রোনোভা।’

মাইক্রো নামের জন্য এই বিস্ফোরণকে ছোট ভাবার কোনো সুযোগ নেই। গবেষকেরা জানিয়েছেন, একটি মাইক্রোনোভা বিস্ফোরণে নক্ষত্রের উপাদানের প্রায় ২০,০০০,০০০ ট্রিলিয়ন কিলোগ্রাম পুড়ে যায়। সংখ্যাটা অনেক বড়। বিজ্ঞানীরা বলছেন গিজার দ্য গ্রেট পিরামিডের মতো ৩.৫ বিলিয়ন পিরামিডকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে এই বিস্ফোরণ।

এখন পর্যন্ত এ রকম মাত্র তিনটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গ্যালাক্সিজুড়ে নিয়মিতভাবেই ঘটছে মাইক্রোনোভা। যেহেতু এই বিস্ফোরণগুলো খুব দ্রুত সংঘটিত হয়, তাই এদের শনাক্ত করা বেশ মুশকিল। এমনটাই মনে করেন গবেষণা দলটির প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিমোন স্কারিংগি।

ভবিষ্যতে অনেক বড় পরিসরে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ইচ্ছা গবেষকদের। মাইক্রোনোভা বিস্ফোরণ সম্পর্কে বিশদভাবে জানার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। এটা নক্ষত্রের শেষ পর্যায়ে এর ওপরে ঘটে চলা থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: স্পেস ডটকম ও সায়েন্স অ্যালার্ট

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন