কীভাবে আবিষ্কার করা হয় ভবঘুরে গ্রহ?

গ্রহ নিজে কোন আলো বিকিরণ করে না। এজন্য এদের শনাক্ত করা কঠিন। ভবঘুরে গ্রহের বেলায় সেটি আরও কঠিন। সাধারণ গ্রহ শনাক্তের পদ্ধতিগুলো এদের বেলায় কাজে লাগানো যায় না। মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব গ্রহ শনাক্ত করা হয়।

দানবীয় নক্ষত্র বা গ্যালাক্সির ভরের কারণে স্থান বেঁকে যায়। ফলে এর পিছনে থাকা বস্তু থেকে নির্গত হওয়া আলোর গতিপথও যায় বেঁকে। এই ঘটনাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং। এই বক্রতা ও আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, ওই নক্ষত্র বা গ্যালাক্সির ভরের পরিমাণ।

মাইক্রোলেন্সিং-এর বেলাতেও একই ঘটনা ঘটে। পার্থক্য শুধু এক্ষেত্রে আলো বেঁকে যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম হয়। অদৃশ্য কোন কিছুর কারণে সামান্য পরিমাণে আলো বেঁকে গেলে বোঝা যায় সেখানে ভবঘুরে গ্রহের অস্তিত্ব আছে। এভাবেই মূলত ভবঘুরে গ্রহ আবিষ্কার করা হয়। সর্বপ্রথম ভবঘুরে গ্রহের অস্তিত্ব শনাক্ত হয় ২০১১ সালে। যদিও তার প্রায় কয়েক দশক আগে এর অস্তিত্ব তাত্ত্বিকভাবে প্রমাণ করেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

মিল্কিওয় গ্যালাক্সিতে প্রতিটি নক্ষত্রের বিপরীতে বৃহস্পতির দ্বিগুণ আকারের কমপক্ষে একটি করে ভবঘুরে গ্রহ আছে বলে ধারণা করেন বিজ্ঞানীরা। সেই হিসেবে প্রায় ২০ হাজার কোটি গ্যাসীয় দৈত্যাকার ভবঘুরে গ্রহ থাকতে পারে শুধু মিল্কিওয়েতেই। ছোট-বড় মিলিয়ে হিসেব করলে সংখ্যাটি প্রায় ১ লাখ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: দ্য কনভার্সেশন

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন