পরের তিন বছরও এই উত্তেজনা টিকে ছিল। রাশিয়া অনেক চেষ্টা করেছে চাঁদে নভোচারী পাঠাতে। পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে তখন আরও পাঁচটি নভোযানে মোট দশজন নভোচারী পাঠিয়েছিল চাঁদে। তারপর স্তিমিত হয়ে আসে এই উত্তেজনা। তাছাড়া চাঁদে মানুষ পাঠাতে যে পরিমাণ খরচ পড়ে, সেই বাজেট মার্কিন সরকার অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীরাও কিছুদিন পর স্বয়ংক্রিয় রোবটিক নভোযান পাঠাতে শিখে ফেলেন। ফলে মানুষের নাজুক দেহ চাঁদের মাটিতে বয়ে নেওয়ার আর কোনো দরকার রইল না। সেজন্যই গত ৫০ বছরে আর কোনো মানুষ চাঁদে যাননি। নমুনা আনার জন্য রোবটিক নভোযান পাঠানো হয়েছে অনেকবার। সুস্পষ্ট ছবির জন্য আছে দারুণ সব কৃত্রিম উপগ্রহ। তাহলে প্রশ্ন আসে, এত বছর পরে আবার কেন?

আসলে, আর্টেমিস মিশনের মূল লক্ষ্য চাঁদে মানুষ পাঠানো নয়। বরং চাঁদের বুকে নভোচারী ও গবেষকদের ছোট কলোনি গড়ে তোলা, চাঁদের কক্ষপথে লুনার গেটওয়ে স্থাপন এবং এর সাহায্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোই এই গবেষণা সংস্থার আসল উদ্দেশ্য। সেজন্যই নাসার সঙ্গে এক হয়েছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইসা), জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সিসহ (জাক্সা) পৃথিবীর ২১টি দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এলন মাস্কের স্পেস-এক্সের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে এই মিশনে।

সেই ২০০৫ সাল থেকে এ উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করে নাসা। নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে আর্টেমিস ১ সত্যিই পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছে।

আর্টেমিস প্রোগ্রাম এ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন। এটি সফল হলে মানুষের পা পড়বে মঙ্গলে। এরকম রোমাঞ্চকর এক সময়ে আমরা বেঁচে আছি, ভাবলেই তো ভালো লাগে!

লেখক: সম্পাদনা দলের সদস্য, বিজ্ঞানচিন্তা

সূত্র: নাসা, উইকিপিডিয়া

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন