প্লুটো

অনেকেই প্লুটোকে সৌরজগতের একটা গ্রহ ভাবলেও এটি আসলে একটি বামন গ্রহ। বামন গ্রহ বলা হয় ওই সব বস্তুকে, যেগুলো গোলাকার আকৃতি পাওয়ার মতো ভারী হলেও এর কক্ষপথের ধারেকাছে এর কাছাকাছি ভরের বস্তু রয়ে গেছে। একটি গ্রহ এর কক্ষপথের আশপাশে থাকা নিজের চাঁদ ছাড়া অন্যান্য বৃহৎ বস্তুকে টেনে নেয়। এটি সৌরজগতের সবচেয়ে দূরের বস্তু, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। প্লুটোর বায়ুমণ্ডল ৯৯.৯% নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত এবং সূর্য থেকে অনেক দূরে থাকায় এটি তীব্র ঠান্ডা। এর গড় তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একনজরে প্লুটো- ধরন: বামন গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৯০,৬১৩ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: প্রযোজ্য নয়, আয়তন: পৃথিবীর ০.০০৫৯ গুণ, সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ৩.৭ বিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ৩, বেগ: ৪.৬৬৬ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠ তাপমাত্রা: -২৩০০০ সেলসিয়াস

ইউরেনাস

টেলিস্কোপে আবিষ্কৃত প্রথম গ্রহ। এর চারপাশে আছে ১১টি খুবই পাতলা বলয় ও ছোট ছোট ২৭টি চাঁদ। এটা দেখতে নীলাভ। কারণ, ইউরেনাসের মিথেন বরফের মেঘ সূর্যরশ্মির লাল অংশ শোষণ করে। এর বায়ুমণ্ডল পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় নয়। প্রায়ই প্রচণ্ড বাতাস এর পৃষ্ঠে অ্যামোনিয়া ও পানিকে দাপিয়ে বেড়ায়।

একনজরে ইউরেনাস- ধরন: বৃহৎ গ্যাসীয় গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৩০,৭৯৯ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ১৭.২৪ ঘণ্টা, আয়তন: পৃথিবীর ৬৩.১ গুণ, সূর্য থেকে দূরত্ব: ১.৭৮ বিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ২৭ বেগ: ৬.৮১ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: -২১৪০০ সেলসিয়াস

মেইন বেল্ট

স্থলজ গ্রহ ও গ্যাসীয় গ্রহগুলোর মধ্যে একটা বেল্ট আছে। এটাকে গ্রহাণু বেল্টও বলা হয়। যেখানে একটা বলয়ের মতো ঘূর্ণনরত অংশে আছে গ্রহাণু, উল্কা, বামন গ্রহ ইত্যাদি।

শনি

শনি গ্রহ বিশাল আকারের গ্যাস ও তরলের বল। সৌরজগতে এর ঘনত্ব সবচেয়ে কম। এর চারপাশে আছে একটা বলয়, যা ধুলা, পাথর ও গ্যাস দিয়ে তৈরি। গ্রহটি দেখতে ঝাপসা কুয়াশাচ্ছন্ন মনে হয়। বিশাল কোনো মহাজাগতিক সাগরে যদি শনি গ্রহকে রাখা হয়, তাহলে এটি সেই পানিতে ভেসে থাকবে।

একনজরে শনি- ধরন: বৃহৎ গ্যাসীয় গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ১০,৭৫৯ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ১০.৬৬ ঘণ্টা, আয়তন: পৃথিবীর ৭৬৩.৫৯ গুণ, সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ৮৮৮ মিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ৩৪, বেগ: ৯.৬৯ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠ উষ্ণতা: -১৪০০০ সেলসিয়াস

বৃহস্পতি

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহের নাম বৃহস্পতি। বাকি গ্রহগুলোর সম্মিলিত ভরের আড়াই গুণ ভারী এটি। এর ভেতরে ১ হাজার ৩০০টি পৃথিবীর জায়গা হবে। সৌরজগতের প্রথম গ্যাসীয় গ্রহ এটি। এর সবচেয়ে বাইরের স্তর গ্যাসীয় হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। মধ্যস্তর তরল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরি ও ভেতরের দিকটা কিছু ধাতব হাইড্রোজেন দিয়ে। তবে একদম ভেতরের দিকে, অর্থাৎ প্রায় ৩৭ হাজার মাইল গভীরে এর মোটামুটি একটা কঠিন কেন্দ্র আছে, যা পাথর, ধাতু ও হাইড্রোজেনঘটিত যৌগ দিয়ে তৈরি।

একনজরে বৃহস্পতি- ধরন: বৃহৎ গ্যাসীয় গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৪,৩৩১ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ৯.৯৩ ঘণ্টা, আয়তন: পৃথিবীর ১,৩২১ গুণ, সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ৪৮৩.৬ মিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ৬৩ বেগ: ১৩.০৭ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: -১১০০০ সেলসিয়াস

সূর্য

৪.৬ বিলিয়ন বছর বয়সী মূল সিকোয়েন্সের তারা। সৌরজগতের সব কটি গ্রহের ভরের চেয়ে ৭৫০ গুণ ভারী এই বিশাল তারা। এর কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের ফিউশনের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় তৈরি হয় প্রচুর শক্তি। সেটি পরিচলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে চলে আসে বাইরের দিকে। এরপর ছড়িয়ে পড়ে পুরো সৌরজগতে এবং আরও দূরে।

একনজরে সূর্য- ধরন: তারা বিষুবীয়, ঘূর্ণনকাল: ২৫ দিন, মেরুর ঘূর্ণনকাল: ৩৪ দিন, ভর: পৃথিবীর ৩,৩৩,০০০ গুণ, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: ৫,৫০০ সেলসিয়াস, কেন্দ্রের তাপমাত্রা: ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস, ব্যাস (বিষুবীয়): ৮৬৪,৯০০ মাইল

বুধ

সূর্যের নিকটতম এই গ্রহ আবার সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ। এর অনেকাংশই লোহা। এর চারপাশে কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় দিনে ও রাতে এর তাপমাত্রায় ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। দিনে এর তাপমাত্রা ৪২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। রাতে নেমে দাঁড়ায় মাইনাস ১৮৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আপনি যদি এখানে চলে যেতে পারেন, তাহলে এক সূর্যোদয় থেকে অন্য সূর্যোদয়ের জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে পৃথিবীর ১৭৬ দিন।

একজনরে বুধ- ধরন: স্থলজ গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৮৮ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ৫৯ দিন, ভর: পৃথিবীর ০.০৫৬ গুণ, সূর্য থেকে দূরত্ব: ৩৬ মিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ০, বেগ: ৪৭.৮৭ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: -১৮৭ থেকে ৪২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

পৃথিবী

ভেতরের গঠন আশপাশের গ্রহের মতোই। মূলত তিন স্তরে গঠিত। পর্যায়ক্রমে স্তরগুলো গঠিত হয়েছে লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকেট দিয়ে। অন্য গ্রহের সঙ্গে আমাদের বাসগ্রহের মূল পার্থক্য এর পৃষ্ঠদেশে। এখানে প্রচুর তরল পানি ও অক্সিজেনে ভরপুর একটা বায়ুমণ্ডল আছে। মেরু অঞ্চলের চেয়ে বিষুবীয় অঞ্চলের ব্যাস প্রায় ১৩ মাইল বেশি। এটি কক্ষপথের সঙ্গে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে। ফলে এ গ্রহে কয়েকটি ঋতুর দেখা মেলে।

একনজরে পৃথিবী- ধরন: স্থলজ গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৩৬৫.২৬ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট, ভর: ৫.৯৭৩৬×১০^২৪ কেজি (৫.৯ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কেজি), সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ৯৩ মিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ১, বেগ: ২৯.৭৮৩ কি.মি./ সেকেন্ড, পৃষ্ঠ তাপমাত্রা: ১৫০০ সেলসিয়াস

মঙ্গল

সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি আছে এই গ্রহে, যার অনেকগুলো নিষ্ক্রিয়। এর রক্তিম রঙের কারণে একে লাল গ্রহ নামেও ডাকা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এখন এ গ্রহ নিষ্ক্রিয় হলেও একসময় পুরো গ্রহেই জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি ও পানি ছিল। মঙ্গলই সৌরজগতের চার স্থলজ পাথুরে গ্রহের সবচেয়ে বাইরের গ্রহ। গ্রহটি মূলত প্রচুর সালফার, লোহার সালফাইড ও সিলিকেটে তৈরি পাথর দিয়ে গঠিত।

একনজরে মঙ্গল- ধরন: স্থলজ গ্রহ, বছরের দৈর্ঘ্য: ৬৮৭ দিন, দিনের দৈর্ঘ্য: ২৪.৬৩ দিন, ভর: পৃথিবীর ০.১৫ গুণ, সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ১৪১.৬ মিলিয়ন মাইল, চাঁদের সংখ্যা: ২, বেগ: ২৪.০০৭ কি.মি./সেকেন্ড, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: -১২৫ থেকে -২৫০০ সেলসিয়াস

শুক্র

সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহ এটি। এর একটা স্থায়ী বায়ুমণ্ডল আছে। এই গ্রহের পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পৃষ্ঠদেশ শুষ্ক, প্রাণহীন, উষ্ণ এবং আগ্নেয়গিরি ও ধূলিঝড়ে জর্জরিত। এর নাম রাখা হয়েছিল রোমান ভালোবাসার দেবী ভেনাসের নামে। কারণ, ধুলার মেঘে আচ্ছাদিত এই গ্রহ সূর্যের আলোকে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করে এবং দূর থেকে দেখতে এটি সুন্দরই বটে। তবে বাস্তবে এর পরিবেশ সৌরজগতের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিকূল। এর আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, এর অক্ষের ঘূর্ণন অন্য সব গ্রহের ঘূর্ণনের উল্টা দিকে।

একনজরে শুক্র- ধরন: স্থলজ গ্রহ বছরের দৈর্ঘ্য: ২২৪.৭ দিন দিনের দৈর্ঘ্য: ২৪৩ দিন ভর: পৃথিবীর ০.৮৬ গুণ সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: ৬৭.২ মিলিয়ন মাইল চাঁদের সংখ্যা: ০ বেগ: ৩৫.০২ কি.মি./ সেকেন্ড পৃষ্ঠ তাপমাত্রা: ৪৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

*দিন ও বছরের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর দিনসংখ্যার হিসাবে দেওয়া হয়েছে।

**প্রথম প্রকাশ: জুন ২০২১ সংখ্যা

গ্রন্থনা: শিক্ষার্থী, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: হাউ ইট ওয়ার্কস