জেমস ওয়েবের ক্ষতিগ্রস্ত আয়না কি সারানো সম্ভব

মাইক্রোমেটিওরয়েড বা ক্ষুদ্র উল্কার আঘাতে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে মেরামতের অযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি ৫৫ পৃষ্ঠার এক যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) এবং কানাডিয়ান স্পেজ এজেন্সি (CSA)। তবে, এ জন্য জেমস ওয়েবের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

মহাকাশে স্থাপনের পর এ পর্যন্ত ছোটবড় উনিশটি মাইক্রোমেটিওরয়েড আঘাত করেছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপকে। গত ২৩ থেকে ২৫ মের মধ্যে জেমস ওয়েবের আয়নায় সবচেয় বড় আঘাতটা আসে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ আঘাত ওয়েবের মূল মিশনকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

নতুন এই প্রতিবেদনের সংযুক্ত ছবিতে দেখা যায় C3 আয়নাটিতে সাদা রঙের স্পট রয়েছে। বাকি সতেরোটি আয়নায় কোনো স্পট নেই। অর্থাৎ C3 আয়নাটি মাইক্রোমেটিওরয়েডের আঘাতে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি মেরামতের কোনো সুযোগ আপাতত বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।

এর কারণ, পৃথিবী থেকে জেমস ওয়েবের দূরত্ব। মহাকাশে কোন বস্তু পাঠানোর চেয়ে, সেখানে শরীরে গিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। হাবল টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা মহাকাশে গিয়েই মেরামতের কাজটি করতে পেরেছিলেন। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব অনেক কম। মাত্র ৫৪০ কিলোমিটার। অন্যদিকে জেমস ওয়েব স্থাপন করা হয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় ল্যাগ্রাঞ্জ বিন্দুতে। পৃথিবী থেকে দূরত্ব প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের প্রায় চারগুণ এই দূরত্ব। জেমস ওয়েবকে মেরামত করার জন্য এতো দূরের মহাকাশে অভিযান পরিচালনা করা আপাতত সম্ভব নয়। তবে, জেমস ওয়েবের বাকি সতেরোটি আয়না অক্ষত রয়েছে।

মহাকাশে এ ধরনের আঘাত খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা এদিকটা চিন্তা করেই জেমস ওয়েবের ডিজাইন করছিলেন। এরকম আঘাত শনাক্তের জন্য জেমস ওয়েবে রয়েছে শক্তিশালী সেন্সর। এর সাহায্যে জেমস ওয়েবে প্রতিটি আঘাতে তৈরি হওয়া ক্ষত, আয়নায় তরঙ্গ প্রতিফলনে কতোটা বিচ্যুতি তৈরি করবে, তা হিসেব করা সম্ভব। ফলে মূল পর্যবেক্ষণের ডেটার সাথে সেই ত্রুটির হিসেব মিলিয়ে নিয়ে নিখুঁত ছবি পাবেন বিজ্ঞানীরা। ডেটার মৌলিকত্ব কিছুটা কমবে অবশ্য সেক্ষেত্রে।

পরিসংখ্যান বলছে, জেমস ওয়েবে কয়েক বছর পরপর বড় আকারের মাইক্রোমেটিওরয়েডের আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু মহাকাশে স্থাপনের প্রথম ছয়মাসের মাথায় এ ধরনের আঘাত কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আশার কথা হচ্ছে, এই আঘাতের পর জেমস ওয়েবের তোলা প্রথম যে ছবিগুলো প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ করতে পেরেছে। এটা প্রমাণ করে, আঘাতের কারণে অদূর ভবিষ্যতে জেমস ওয়েবের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। এই টেলিস্কোপ তার ২০ বছর মেয়াদকাল ঠিকঠাকভাবেই পূর্ণ করতে পারবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

লেখক : শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা।

সূত্র : নাসা, লাইভ সায়েন্স