প্রশ্ন :
বিজ্ঞানচিন্তার একটি সংখ্যায় মহাকর্ষীয় বলের শক্তি অন্য মাত্রায় চলে যাওয়া নিয়ে পরেছিলাম। স্ফীতি তত্ত্ব অনুসারে বিগ ব্যাংয়ের সময় মহাবিশ্বের স্ফীতি হয়েছিল আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে। এ ক্ষেত্রে প্রসারণ হয়েছে স্বয়ং স্থানের, তাই এটি সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু স্থানের ভেতর কোনো কিছুর বেগ আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে না। এমনকি মহাকর্ষ বলও আলোর বেগেই ক্রিয়া করে। কিন্তু গ্র্যাভিটন স্থানের কোয়ান্টাইজড অবস্থা অর্থাৎ গ্র্যাভিটনও স্থানের অংশ। তাহলে গ্র্যাভিটন, তথা মহাকর্ষ বলের ক্রিয়া কেন আলোর বেগেই সীমাবদ্ধ?
আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা সমীকরণের সমাধানে যে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ পাওয়া যায়, তার গতিবেগ আলোর গতিবেগের সমান। এর অন্যতম কারণ সাধারণ আপেক্ষিকতায় স্থান-কালের বক্রতার যে মেট্রিক, তার মধ্যে আলোর গতিবেগ অন্যতম ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া মহাকর্ষ মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যম অনুকল্পিত গ্র্যাভিটনের ভর শূন্য। যেকোনো ভরশূন্য কণার গতিবেগ আলোর গতিবেগের সমান। আমাদের মহাবিশ্বে আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব নয়। যদি সেটা সম্ভব হয়, তবে তাতে অনেক প্যারাডক্স দেখা দেবে, যেমন কোনো সংকেত পাঠানোর আগেই সেই সংকেত পৌঁছে যাবে প্রাপকের কাছে। বিগ ব্যাংয়ের সময় স্থানের যে প্রসারণ, তাতে কোনো তথ্যের আদান-প্রদান হয়নি। আমরা এমন উন্নত সভ্যতা কল্পনা করতে পারি, যারা দুটি তারাকে সংঘর্ষ করিয়ে (বা অন্য কোনো অভিনব উপায়ে) মহাকর্ষ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। তাহলে তারা আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে তথ্য পাঠাতে পারবে, যা কিনা প্রকৃতিতে ‘ঘটনার কারণ’ ও ‘ফলাফলকে’ উল্টে দেবে। এসবের পরেও অনেকে রূপান্তরিত আপেক্ষিকতা তত্ত্বে মহাকর্ষের গতিবেগ আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। গত বছর আলো ও মহাকর্ষীয় তরঙ্গ একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণের পরে ওই ধারণা কার্যকর নয় বলে আমরা ধরে নিতে পারি।
প্রশ্ন করেছেন, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ
উত্তর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিভারসাইড কলেজের জ্যোতিঃপদার্থবিদ ও অধ্যাপক দীপেন ভট্টাচার্য
* লেখাটি বিজ্ঞানচিন্তা ২০১৮ সালের নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত।