ব্ল্যাকহোলের রহস্য উন্মোচনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

সম্প্রতি ব্ল্যাকহোলের জীবনচক্রের রহস্য উন্মোচন করেছেন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল। দলটি নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা। তাঁদের গবেষণাপত্রটি গত ১৫ জুলাই দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়।

মহাকাশের দুর্বোধ্য বস্তুর মধ্যে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অবস্থান সামনের সারিতে। বিশেষ করে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। তনিমা তাসনিম অনন্যা ও তাঁর দল ব্ল্যাকহোলের জীবচক্র বোঝার জন্য সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস বা এজিএন নামে পরিচিত এক ধরনের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বেছে নেন।

ব্ল্যাকহোলের অ্যাক্রিয়েশন ডিস্ক থেকে নানা বর্ণের আলো নির্গত হয়। এ আলোর উজ্জ্বলতাও ভিন্ন হয়। ব্ল্যাকহোলের এই বর্ণ এবং উজ্জ্বলতার পার্থক্য নির্ভর করে পর্যবেক্ষক ও ব্ল্যাকহোলের মধ্যকার কোণের উপর। সাম্প্রতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাকহোলের আলোর এই ভিন্নতা আসলে ব্ল্যাকহোলের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তথ্য দেয়।

তাঁদের এই গবেষণা সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াসগুলোর ইউনিফাইড মডেলকে ব্যাখা করে। এর মাধ্যমে ব্ল্যাকহোলের রহস্য উন্মোচনে মানবজাতি আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

তনিমা তাসনিম অনন্যা বর্তমানে ডার্টমাউথ কলেজে পোস্ট ডক্টরাল সহযোগী গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাইন মায়্যার কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং হ্যাভারফোর্ড কলেজ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নেন। এর আগেও ব্ল্যাকহোল নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সায়েন্স নিউজ সাময়িকীর দৃষ্টিতে ২০২০ সালের উল্লেখযোগ্য ১০ জন তরুণ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পান তনিমা তাসনিম অনন্যা। বাংলাদেশে ও লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করে পদার্থবিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা।