২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে আর্টেমিস মিশনের জন্য নভোচারীদের দল ঘোষণা করেছিল নাসা। সেই দলে ছিলেন ৯ জন নারী নভোচারী। তাঁরা হলেন, কাইল ব্যারন, ক্রিস্টিনা কোচ, নিকোল মান, অ্যানি ম্যাকক্লেইন, জেসিকা মেয়ার, জেসমিন মোঘবেলি, কেট রুবিনস, জেসিকা ওয়াটকিনস ও স্টেফানি উইলসন। এদের থেকেই হয়ত একজন প্রথম চাঁদে ভ্রমণ করবেন। আর্টেমিস মিশনের ৯ জন নারী সদস্যের সঙ্গে ৯ জন পুরুষ সদস্যের নামও ঘোষণা করেছে নাসা। চলতি বছর আগস্ট মাসে নাসার মুখ্য নভোচারী রিড ওয়াজম্যান ঘোষণা করেন, ‘আর্টেমিস মিশনের জন্য নাসার যোগ্য নভোচারীদের নাম পরবর্তী তারিখে ঘোষণা করা হবে।’

কিন্তু কেন চাঁদে নারী নভোচারী পাঠাতে চায় নাসা? শুধু প্রচার ও ইতিহাস সৃষ্টির জন্য?

এ ব্যাপারে নাসার অবসরপ্রাপ্ত জৈব রসায়নবিদ ও নভোচারী পেগি হুইটসন বলেন, আর্টেমিস মিশনে নারী চাঁদে পাঠানোর ব্যাপারটা মোটেও বিস্ময়কর ব্যাপার নয়। কারণ যিনি চাঁদে পা রাখবেন তিনি এই কাজের জন্য অবশ্যই যোগ্য। চাঁদে নারী পাঠানোর মাধ্যমে নাসা চেষ্টা করছে অন্যান্য দেশকে আবার চাঁদের প্রতি উৎসাহিত করতে। কারণ মঙ্গল গ্রহে যাওয়া বা আরও দূরে ভ্রমণ করার জন্য চাঁদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিকাশ করা দরকার। চাঁদ হতে পারে একটি উপযুক্ত স্টেশন।

এর আগে ২০১৯ সালে দুজন নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ ও জেসিকা মেয়ার প্রথম মহাকাশে হাটার রেকর্ড করেছিলেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাটারিকে আপগ্রেড করতে গিয়েছিলেন এই দুই নভোচারী। বিষয়টা খুবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এ খবরটাই অধিকাংশ পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল। কারণ এর আগে কখনো শুধু দুজন নারী মহাকাশে কোনো মিশন পরিচালনা করেননি। কিন্তু স্রেফ ইতিহাস তৈরি করার জন্য নয়, জেসিকা মেয়ার ও ক্রিস্টিনা কোচ এই কাজের জন্য উপযুক্তই ছিলেন বলেই তাঁদের মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে আর্টেমিস ৩ মিশনে কোন যোগ্য নারী চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখবেন। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। সময় বলে দেবে কে হবেন চাঁদে পা রাখা প্রথম নারী।

সূত্র: নাসা ও স্পেস ডট কম

লেখক: শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন