আলোর গতিকেই কেন ব্যবহার করা হলো? কারণ আলো মহাবিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগামী। আলো এক বছরে প্রায় ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। সুতরাং বলা যায়, এক আলোকবর্ষ বলতে বোঝায় ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার।

চাইলে আপনিও এই দূরত্ব নির্ণয় করতে পারেন। আমরা জানি, আলো শূন্য মাধ্যমে সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এক ঘণ্টা বা ৩ হাজার ৬০০ সেকেন্ডে আলো পাড়ি দেয় ১.০৮×১০ কিলোমিটার পথ। তাহলে এক বছর বা ৮ হাজার ৭৬৬ ঘণ্টায় আলো ৯.৫×১০১২ বা ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে।

দূরত্বটা অনেক বড় মনে হলেও আসলে মহাবিশ্বের বিশালতার হিসেবে এটা কিছুই না। কারণ সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেন্টুরাইয়ের দূরত্ব প্রায় ৪.৪ আলোকবর্ষ।

আলোকবর্ষের এই দূরত্বকে মাইল বা কিলোমিটারের সঙ্গে তুলনা করে বোঝানো সহজ নয়। মার্কিন জ্যোতির্বিদ রবার্ট বার্নহাম জুনিয়র প্রথম একটি পন্থা খুজে পান। যার সাহায্যে খুব সহজে আলোকবর্ষের দূরত্বকে কিলোমিটার বা মাইলে বোঝানো সম্ভব।

আমরা জানি, সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। এই দূরত্বকে বলা হয় এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক বা Astronomical Unit (AU)। বার্নহাম আলোকবর্ষকে এই AU-তে কনভার্ট করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বার্নহাম দেখতে পান, এক মাইলকে ইঞ্চিতে রূপান্তর করলে যতো সংখ্যা হয়, এক আলোকবর্ষকে AU-তে রূপান্তর করলে প্রায় কাছাকাছি সংখ্যা পাওয়া যায়।

এক মাইল বা প্রায় ১.৬ কিলোমিটারকে ইঞ্চিতে রূপান্তর করলে হয় ৬৩ হাজার ৩৬০ ইঞ্চি। অন্যদিকে এক আলোকবর্ষকে AU-তে রূপান্তর করলে হয় ৬৩ হাজার AU। এই মজার মিলটাই আলোকবর্ষের মাপকে আমাদের বোধগম্য মাপের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বকে এক ইঞ্চির সঙ্গে তুলনা করলে এক আলোকবর্ষের দূরত্ব হবে এক মাইল বা ১.৬ কিলোমিটার। ফলে দুরত্ব মাপার ক্ষেত্রে এই হিসাব সহজ হয়। যেমন, আলফা সেন্টুরাইয়ের দূরত্ব প্রায় ৪.৪ আলোকবর্ষ। এখন যদি সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বকে এক ইঞ্চি ধরি, তাহলে আলফা সেন্টুরাইয়ের দূরত্ব হবে ৪.৪ মাইল। এভাবে আরও চেনা কিছু নক্ষত্রের দূরত্বকে আমরা তুলনা করে দেখতে পারি। লুব্ধক (Sirius) নক্ষত্রের দূরত্ব হবে ৮.৬ মাইল, অভিজিৎ (Vega) নক্ষত্রের দূরত্ব হবে ২৫ মাইল, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দূরত্ব হবে ২ কোটি ৮০ লাখ মাইল।

এতো ছোটো একক ইঞ্চির সাথে তুলনা করার পরও সংখ্যাগুলো অনেক বড় দেখা যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় আলোকবর্ষ আসলে কতটা বড়। এছাড়াও আলোকবর্ষকে আরো ছোট করে আলোকমিনিট (Light minute) এবং আলোকসেকেন্ডেও (Light second) রূপান্তর করা হয়। চাঁদ ও পৃথিবীর দুরত্বকে বলা হয় এক আলোকসেকেন্ড। কারণ চাঁদ থেকে কোন আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে আসতে প্রায় এক সেকেন্ড সময় লাগে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিরাজগঞ্জ

সূত্র: আর্থস্কাই ডট ওআরজি ও স্পেস ডট কম

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন