বর্তমান ও অতীতের সংযোগ সেতু
আইনস্টাইনের মতে, সব বস্তু স্থান ও কালকে বাঁকিয়ে দেয়। কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে খুব ছোট্ট জায়গায় বিপুল পরিমাণ পদার্থ থাকে। স্থান-কালও বেঁকে যায় চরমভাবে। দুটো কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংযোগ থাকলে তাদের মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ বা ওয়ার্মহোল থাকতে পারে। ফলে যুক্ত হয়ে যায় দুটি স্থান বা সময়। ওয়ার্মহোল কিন্তু মোটেও গরম কিছু নয়। এটা মহাবিশ্বের এক স্থানকাল থেকে আরেক স্থানকালে যাওয়ার জন্য একটা মধ্যবর্তী সেতু। সময় ‘ভ্রমণের ধারণা ভ্রান্ত’ প্রমাণ করতেই ১৯৩০-এর দশকে আলবার্ট আইনস্টাইন ও নাথান রোজেন একটা প্রবন্ধ লেখেনে। সেই প্রবন্ধেই প্রথম দুটি কৃষ্ণগহ্বর জুড়ে ওয়ার্মহোল তৈরি করার কৌশল দেখান দুই বিজ্ঞানী।
ওয়ার্মহোল তৈরি এবং একে টাইম মেশিন হিসেবে ব্যবহার
স্থানকালকে একটি চাদরের মতো ভাবা যায়। সেটা ভারী বস্তুর প্রভাবে বেঁকে যায়
ওয়ার্মহোল
দুটো স্থানকালকে জোড়া দেয়। ফলে মহাবিশ্বের মধ্যে একটি শর্টকাট তৈরি হয়।
এক্সটিক ম্যাটার
ওয়ার্মহোলকে তাত্ক্ষণিকভাবে ধসে পড়তে দেয় না
স্থানকালের মধ্যে শর্টকাট
ধরা যাক, একটি কণা ত্বরকযন্ত্রে দুটো কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হলো। দুই বক্রতার সমন্বয়ে তৈরি হয় ওয়ার্মহোল যেটি। স্থানকালের দুটো স্থানকে জোড়া দেয়।
১. একটি ওয়ার্মহোল একই গ্রামের দুটো স্থানকে জোড়া দেয়। গ্রামের লোকেরা শর্টকাট পথে স্কুল থেকে বাজারে আসা-যাওয়া করতে পারে। কিন্তু দুই প্রবেশমুখে সময় একই থাকে।
২. কোন গ্রামবাসী একটি নভোযানে চড়ে প্রায় আলোর বেগে যাত্রা করলেন। সঙ্গে থাকল ওয়ার্মহোলের তাঁর নিজের দিকের প্রান্তটি। এটি বাজারের অবস্থানের তুলনায় চলতে থাকে।
৩. ওয়ার্মহোলের এক প্রান্তসহ তিনি দূরের একটি ছায়াপথে পৌঁছান। বাজার থেকে অনেক দূরে। ওয়ার্মহোলের অন্যপ্রান্ত এখনো সেই স্কুলেই আছে।
৪. অভিযাত্রী যখন ফিরে এলেন, উচ্চগতির কারণে তাঁর সময় পার হয়েছে খুব সামান্য। কিন্তু পৃথিবীতে পার হয়েছে অনেক বছর। ওয়ার্মহোল এই দুটি ভিন্ন সময়কে যুক্ত করেছে।
*লেখাটি ২০১৮ সালে বিজ্ঞানচিন্তার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত