কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী

কোয়ান্টাম কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কিছু কাজে গতানুগতিক কম্পিউটারে করা সম্ভব নয়। এসব জটিল গাণিতিক কাজ করার জন্য দরকার অবিশ্বাস্য গতি। গতানুগতিক সুপার কম্পিউটারে এই গতি অর্জন সম্ভব নয়। কোয়ান্টাম তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে এসব জটিল কাজ সহজেই করে ফেলা সম্ভব। সাধারণ কম্পিউটার চলে বাইনারি বিট পদ্ধতিতে, শুধু ০ আর ১ ব্যবহার করে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে বাইনারি বিটের বদলে ব্যবহার করা হয় কিউবিট। এ পদ্ধতিতে কম্পিউটার একটি সমস্যার একই সঙ্গে বহু সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। সেখান থেকে সঠিক হিসাবটা দিতে তাই দেরি হয় না।

চীনের তৈরি কোয়ান্টাম কম্পিউটার জিউজাং তার সব হিসাব-নিকাশ বা গণনা করে অপটিক্যাল সার্কিট ব্যবহার করে। অন্যদিকে গুগলের কোয়ান্টাম কম্পিউটার সাইকোমারে ব্যবহৃত হয় সুপারকন্ডাকটর বা অতিপরিবাহী চিপ। এটা সাধারণত গতানুগতিক কম্পিউটারের কাছাকাছি একটা ব্যবস্থা।

জিউজাংকে পরীক্ষার জন্য গবেষকরা গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং (জিবিএস) পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এ পদ্ধতিতে কম্পিউটার আলো ব্যবহার করে একটি জটিল সার্কিটের আউটপুট গণনা করে। কম্পিউটারের সাফল্য পরিমাপ করা হয় শনাক্তকৃত ফোটন (আলোর কণাকে ফোটন বলে) সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। জিউজাং নিজেই একটি অপটিক্যাল সার্কিট। এক-একটি হিসাবে সর্বাধিক ৭৬টি ফোটন শনাক্ত করতে পারে জিউজাং। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রতিটা হিসাবে গড়ে ৪৩টি ফোটন শনাক্ত করেছে। প্রতিটি কাজের জন্য এটি সময় নেয় ২০০ সেকেন্ড। একই ধরনের কাজের জন্য চীনের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটার তাইহুলাইটের সময় লাগবে ২৫০ কোটি বছর।

চীনা বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার মতে, সাধারণ কাজে ব্যবহার উপযোগী কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনো চীনের হাতে আসেনি। তবে জিউজাং এ পথে একটা বড় অগ্রগতি, এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইউল্যাব, ঢাকা

সূত্র: লাইভ সায়েন্স