বিদ্যুতের গান

আমি বিদ্যুৎ এমন শক্তি অগ্রগতির প্রাণ,

উন্নয়নের মৌল কাঠামো দিতে রাখি অবদান।

ইতিহাস থেকে দেখে নিতে পারো আমার উদ্ভাবন

ধাপে ধাপে নানা হাত ধরে হয় কীভাবে উত্তরণ।

বিজ্ঞানী গিলবার্ট দেখালেন একমুখী বিদ্যুৎ,

এসি চেনালেন নিকোলা টেসলা বিজ্ঞানী রাজপুত।

ফ্যারাডের হাতে এল ভোল্টেজ, কারেন্ট রেজিস্ট্যান্স,

টমাস আলভা বাল্ব বানালেন দেখালেন সাসপেন্স।

তবে যে আমার প্রথম ধারণা দিয়েছেন ফ্র্যাংকলিন,

আমি তাই এই সবার কাছেই কৃতজ্ঞ চিরদিন।

এইভাবে এসে আমি দিয়ে যাই শক্তির পরিচয়,

আমার হাতেই এই পৃথিবীতে সভ্যতা পেল জয়।

আমার উত্স সবাই করেছে যুগে যুগে সন্ধান

এখানেও আছে নানান চমক, উৎসের উত্থান

সৌরশক্তি, যার আলো আছে, আছে কিছু উত্তাপ,

এই দুটোতেই পাবে আমাকে যে পার হলে কিছু ধাপ।

যেখানে বাতাসপ্রবাহ তুঙ্গে, বয়ে যায় শন শন,

এই বাতাসের শক্তিতে হয় আমার উত্পাদন।

টারবাইন দিয়ে পানি প্রবাহের শক্তিকে হরদম

ব্যবহার করে আমাকে তৈরি, জনপ্রিয় মাধ্যম।

কয়লা, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালে বাষ্প হয়,

এখানেও আমি, এই বাষ্পের শক্তিরা অক্ষয়।

পারমাণবিক শক্তির তাপ বাষ্পে রূপান্তর,

বাষ্পশক্তি সবশেষে হয় বিদ্যুৎ তারপর।

আমি দিই আলো, চালু রাখি কল, মেশিন, যন্ত্রযান,

কারখানা, কৃষি, জীবনযাপন উত্সব–অনুষ্ঠান।

আমি ছাড়া সব জ্ঞান গবেষণা প্রযুক্তি নিষ্প্রাণ

উন্নয়নের সবকিছুতেই আমি রাখি অবদান।

অথচ আমিই হয়ে যাই চুরি, সিস্টেমে হই লস,

অতিব্যবহার, অপব্যবহার আমাকে করেছে বশ।

বিশ্বকে আমি আলোকিত করি, এখানে আমার জয়,

আমার আলোয় মানুষের মন হচ্ছে আলোকময়।