নেতিবাচক চিন্তা কি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে পুনরাবৃত্তিমূলক নেতিবাচক চিন্তা মস্তিষ্কের জন্য বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। এটি স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়াতে কিংবা ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তা মস্তিষ্কের একই রকম ক্ষতি করে না; কারও কারও ক্ষেত্রে এর প্রভাব ক্ষীণ, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশ তীব্র।
নেতিবাচক চিন্তা মস্তিষ্কে চাপ বাড়ায়
সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কে একটি অপটিমিজম বায়াস বা ইতিবাচকতার প্রতি পক্ষপাত থাকে। আর এ কারণেই আমরা সহজেই আশা করতে পারি যে সামনে সবকিছু ঠিকঠাক হবে। ঠিক এই কারণে আশাবাদী হওয়া বা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। কিন্তু কেউ যদি এর বিপরীতটা করেন, অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কেবল নেতিবাচক চিন্তাই করতে থাকেন, তবে তাঁর মস্তিষ্কে স্ট্রেস রেসপন্স বা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়ে যায়। ধীরে ধীরে এই অতিরিক্ত স্ট্রেস মস্তিষ্ককে প্রচণ্ড চাপে ফেলে। এটি অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং স্নায়বিক নানা সমস্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। এতে ডিমেনশিয়ার মতো রোগ দ্রুত ত্বরান্বিত হতে পারে।
দীর্ঘ সময়ের নেতিবাচক চিন্তা মানুষের মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই মানসিক চাপ মস্তিষ্কে একধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। ফলে মস্তিষ্কের সামগ্রিক কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
পুনরাবৃত্ত নেতিবাচক চিন্তার প্রভাব
গবেষণা থেকে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে পুনরাবৃত্তিমূলক নেতিবাচক চিন্তা মস্তিষ্কের জন্য চরম ক্ষতিকর। যেমন অতীত নিয়ে বারবার কাঁটাছেঁড়া করা, অযথা দুশ্চিন্তা করা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অবিরাম উদ্বেগ প্রকাশ করা। এর ফলে ছোট ছোট স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, দরকারি কথা মনে করতে না পারা এবং সমস্যা সমাধান বা সৃজনশীল কাজে অসুবিধা তৈরি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ধীরে ধীরে মানুষের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং তাকে দ্রুত ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলোর দিকে ধাবিত করতে পারে।
নেতিবাচক চিন্তা কেন ক্ষতিকর
দীর্ঘ সময়ের নেতিবাচক চিন্তা মানুষের মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই মানসিক চাপ মস্তিষ্কে একধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়। ফলে মস্তিষ্কের সামগ্রিক কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে বয়স ৫০-এর বেশি হলে মানসিক চাপ মানুষের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যে কারণে মন ভালো রাখার দায়িত্ব আপনারই
নেতিবাচক চিন্তাভাবনা কমিয়ে দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুললে মানসিক চাপ কমে, দৃশ্যমান উন্নতি হয় মানসিক স্বাস্থ্যের, যেকোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়, মস্তিষ্ক তার পূর্ণ ক্ষমতায় ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা যায়।