প্রতিদিন কতক্ষণ হাঁটলে ব্যাক পেইন থেকে মিলবে মুক্তি
কোমরের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সকালে ঘুম থেকে উঠতে গেলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কোমড় যেন ছিঁড়ে পড়ে। এই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নষ্ট করে, পকেটেরও বারোটা বাজায়। ডাক্তার, ওষুধ ও থেরাপির পেছনে খরচ হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
আমরা সবাই জানি ব্যায়াম শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু ঠিক কতটুকু ব্যায়াম করলে বা কী করলে কোমরের এই বজ্জাত ব্যথা থেকে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। নরওয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি বিশাল এক গবেষণা শেষে শুনিয়েছেন আশার কথা। সমাধান খুব সহজ। হাঁটতে হবে। তবে যেনতেনভাবে হাঁটলে হবে না, ঘড়ি ধরে হাঁটতে হবে।
নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক রায়ানে হাদাডজ বলছেন, ‘যারা প্রতিদিন ১০০ মিনিটের বেশি হাঁটেন, তাদের কোমর ব্যথার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম।’
গবেষকেরা প্রায় ১১ হাজার মানুষের ওপর টানা চার বছর ধরে নজর রেখেছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৫ বছর। তাঁদের উরু ও কোমরে বিশেষ সেন্সর লাগানো ছিল হাঁটার প্রতি মুহূর্তের হিসাব রাখার জন্য। ফলাফলে দেখা গেল চমকপ্রদ তথ্য। কে কত জোরে হাঁটছেন বা দৌড়াচ্ছেন তা এখানে মুখ্য নয়, বরং কতক্ষণ হাঁটছেন সেটা জরুরি। জোরকদমে হাঁটা ভালো, কিন্তু মূলমন্ত্র লুকিয়ে আছে সময়ের মধ্যে। মানে দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানোর চেয়ে বেশি সময় হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ।
নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক রায়ানে হাদাডজ বলছেন, ‘যারা প্রতিদিন ১০০ মিনিটের বেশি হাঁটেন, তাদের কোমর ব্যথার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম।’
এবার একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। যাঁরা দিনে ৭৮ থেকে ১০০ মিনিট হাঁটেন, তাঁদের ব্যথার ঝুঁকি কমে ১৩ শতাংশ। যাঁরা ১০১ থেকে ১২৪ মিনিট হাঁটেন, তাঁদের ঝুঁকি কমে ২৩ শতাংশ। আর যাঁরা ১২৫ মিনিটের বেশি হাঁটেন, তাঁদের ঝুঁকি কমে ২৪ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য জিমে গিয়ে টাকা খরচ করার দরকার নেই। দামী কোনো যন্ত্রপাতিরও প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু ইচ্ছাশক্তি। তরুণ হোন বা বয়স্ক, যে কেউ চাইলেই নিজের রুটিনে এই পরিবর্তনটুকু আনতে পারেন। শুধু প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে হাঁটার সময়টা একটু বাড়িয়ে দিলেই হলো।
কোমরের ব্যথা বা ব্যাক পেইন হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। বয়স বাড়া, ভুল ভঙ্গিতে বসা, পেশি দুর্বল হওয়া বা মানসিক চাপের কারণেও ব্যাক পেইন হয়। ওষুধ বা থেরাপি দিয়ে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু ব্যথা আবার ফিরে আসে। কিন্তু হাঁটা হলো এমন এক ওষুধ, যার কোনো সাইড ইফেক্ট নেই, খরচও নেই।
হাঁটলে যে শুধু কোমর ভালো থাকে তা নয়; হৃৎপিণ্ড সবল হয়, হাড় মজবুত থাকে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মনও ফুরফুরে হয়। তাই লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, বাজার করতে রিকশা না নিয়ে একটু হেঁটে যান। এসব সহজ ও সাধারণ কাজ করলেই ব্যাক পেইন থেকে মুক্তি মিলবে।