বাতাসে কতটা মাইক্রোপ্লাস্টিক ভাসছে, জানলে আঁতকে উঠবেন
সাহারা মরুভূমির ধুধু বালি থেকে মেরু অঞ্চল পর্যন্ত সবখানেই পৌঁছে গেছে প্লাস্টিক। পানিতে প্লাস্টিক, মাটিতে প্লাস্টিক। কিন্তু আমরা যে বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, সেখানকার কী অবস্থা? এতদিন বিজ্ঞানীরা কেবল আন্দাজ করতেন, এবার তাঁরা অঙ্ক কষে বের করেছেন। সেই ফলাফল দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
সম্প্রতি বিখ্যাত নেচার জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতি বছর মাটি বা স্থলভাগ থেকে প্রায় ৬০০ কোয়াড্রিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসে মিশছে। সংখ্যাটা মাথায় ঢুকছে কী? ৬০০-এর পরে আরও ১৫টি শূন্য বসালে হবে এই সংখ্যাটা। এটি আমাদের কল্পনারও বাইরের সংখ্যা।
অনেকেই ভাবি সাগরেই বুঝি প্লাস্টিক বেশি। কিন্তু বাতাসের এই দূষণে সাগরের চেয়ে মাটির অবদানই বেশি। গবেষণা বলছে, সাগর থেকে বাতাসে মেশে প্রায় ২৬ কোয়াড্রিলিয়ন কণা। অর্থাৎ সাগরের চেয়ে স্থলভাগ থেকে প্রায় ২০ গুণ বেশি প্লাস্টিক বাতাসে উড়ছে। গবেষকেরা আরও বিস্তারিত দেখেছেন। স্থলভাগের বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ০.০৮টি প্লাস্টিক কণা ভাসে। আর সাগরের ওপরের বাতাসে এর পরিমাণ মাত্র ০.০০৩টি।
মজার ব্যাপার হলো, আগের কিছু গবেষণায় এই সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি ধারণা করা হয়েছিল। প্রায় ১০০ থেকে ১০ হাজার গুণ বেশি ভাবা হতো। অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী আন্দ্রেয়াস স্টোল এই গবেষণার অন্যতম লেখক। তিনি বলেন, ‘আগের হিসাবগুলোতে প্রচুর অনিশ্চয়তা ছিল। আমাদের এই গবেষণায় সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমানো গেছে।’ তবে সংখ্যাটা আগের চেয়ে কম শুনে স্বস্তির সুযোগ নেই। কারণ এই ৬০০ কোয়াড্রিলিয়ন কণা কিন্তু কম নয়!
গবেষণা বলছে, সাগর থেকে বাতাসে মেশে প্রায় ২৬ কোয়াড্রিলিয়ন প্লাস্টিক কণা। অর্থাৎ সাগরের চেয়ে স্থলভাগ থেকে প্রায় ২০ গুণ বেশি প্লাস্টিক বাতাসে উড়ছে।
প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর আকার ১ মাইক্রন থেকে ৫ মিলিমিটারের মতো। এগুলো খুবই হালকা। বাতাসের ঝাপটায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাড়ি দিতে পারে। তবে সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার অন্যখানে। এগুলো পরিবেশ থেকে দূর করা প্রায় অসম্ভব।
বিজ্ঞানী স্টোল এবং তাঁর দল সারা বিশ্বের ২৮৩টি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রায় ২ হাজার ৭৮২টি নমুনা বিশ্লেষণ করে এই হিসাব বের করেছেন। তাঁরা বলছেন, এই গবেষণা আমাদের একটা ভিত্তি দিল। এখন অন্তত আমরা জানি, বাতাসের এই অদৃশ্য শত্রুর সংখ্যা কত। এই ধূলিকণাগুলো সহজেই আমাদের শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে যেতে পারে। তাই প্লাস্টিকের এই দূষণ থামাতে এখনই সতর্ক হতে হবে। নইলে বিপদ আছে। বিশুদ্ধ বাতাস হয়তো শুধু ইতিহাসের বইয়েই পাওয়া যাবে।