কিছু ছোট মাছ কেন কখনো বড় হয় না
সাগরের নিচে গোবি মাছের বিশাল পরিবার বাস করে। প্রায় ২ হাজার প্রজাতি আছে এই মাছের। এদের মধ্যে কোনোটা বেশ বড়, আবার কোনোটা এতই ছোট যে পুরো জীবনটা একটা নির্দিষ্ট স্থানেই কাটিয়ে দেয়। একই পরিবারের মাছ হয়েও কোনোটা বড় হয়, আবার কোনোটা একদম ছোট থাকে কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষক এমিলি ট্রয়ার। তিনি এবং তাঁর দল দীর্ঘদিন গবেষণা করে এই রহস্যের জট খুলেছেন। আর সেই রহস্য লুকিয়ে আছে মাছের জিনের মধ্যে।
এমিলি ট্রয়ার ১৬২ প্রজাতির গোবি মাছের ওপর গবেষণা চালান। তিনি দেখেন, যেসব গোবি মাছ খুব ছোট, তাদের শরীরে বিশেষ দুটি জিন খুব বেশি সক্রিয় থাকে। জিন দুটোর নাম CDKN1B এবং ING2।
ব্যাপারটা সহজ করে বলি। আমাদের শরীর তৈরি হয় অসংখ্য কোষ দিয়ে। এই কোষগুলো বিভাজিত হয়, সংখ্যায় বাড়ে, আর এভাবেই আমরা ছোট থেকে বড় হই। কিন্তু ছোট গোবি মাছের শরীরে ওই বিশেষ জিন দুটি আর বাড়ে না। ফলে কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়। আর কোষের সংখ্যা বাড়ে না বলেই মাছগুলো আর বড় হতে পারে না, সারা জীবন পিচ্চিই থাকে।
এমিলি ট্রয়ার দেখেন, যেসব গোবি মাছ খুব ছোট, তাদের শরীরে বিশেষ দুটি জিন খুব বেশি সক্রিয় থাকে। জিন দুটোর নাম CDKN1B এবং ING2।
অন্যদিকে, বড় গোবি মাছদের শরীরের কোষ বাড়তে থাকে। তাই ওগুলো আকারেও বড় হয়। মজার ব্যাপার হলো, এই কৌশলটা কিন্তু নতুন নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রায় ৫ কোটি বছর আগে এই ছোট মাছগুলো নিজেদের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একই জেনেটিক ট্রিকস ব্যবহার করে আসছে। প্রকৃতিতে এই ছোট মাছগুলো এমনভাবে থাকে যাতে অল্প জায়গায় সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে।
ভাবতে পারেন, একটা মাছ ছোট হলো নাকি বড়, তা জেনে আমাদের কী লাভ? ওগুলো তো আমরা খাই না, এদের সম্পর্কে এত জ্ঞান অর্জন করতে হবে কেন? লাভ আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুরের শরীর থেকে যদি এই বিশেষ জিন (CDKN1B) সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তারা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বড় হয়ে যায়! তার মানে ইঁদুর হোক বা মাছ, সবার শরীরেই কোষ বিভাজনের নিয়মটা প্রায় একই।
এমিলি ট্রয়ার বলছেন, এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানেও কাজে লাগবে। কারণ টিউমার বা ক্যানসারও একধরনের অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন। এই জিনগুলো কীভাবে কাজ করে তা বুঝলে ভবিষ্যতে হয়তো ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধি থামানোর উপায়ও বের করা সম্ভব হবে।