বিল গেটস থেকে ইলন মাস্ক, কে কতটা বই পড়েন

রকেট সায়েন্স শেখার জন্য ইলন মাস্ক বই পড়েছেন। বিল গেটস বছরে অন্তত ৫০টি বই শেষ করেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী আর সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে বইয়ের পাতায়। কার পড়ার রুটিন কেমন? কে দিনে কত ঘণ্টা পড়েন?

বিশ্বের দুই ধনকুবের বিল গেটস এবং ইলন মাস্কছবি: গ্লোবাল নিউজ

পৃথিবীতে যে মানুষগুলো সবচেয়ে সফল, তাঁরা সবাই একটা বিষয়ে একমত। তাঁদের সাফল্যের পেছনে বই পড়ার অবদান অনেকখানি। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট কিংবা ইলন মাস্ক—বইয়ের প্রতি সবারই রয়েছে দারুণ টান। ভাবছেন, তাঁরা আসলে কতটা বই পড়েন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ওয়ারেন বাফেট

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের এই ধনকুবের প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সংবাদপত্র পড়েন। শুধু তা-ই নয়, ৫০০ পাতার আর্থিক নথিও খুঁটিয়ে দেখেন তিনি।

ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, জ্ঞান হলো চক্রবৃদ্ধি সুদের মতো। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেবল বাড়তেই থাকে। আর সেই জ্ঞান অর্জিত হয় বই পড়ার মাধ্যমে।

ওয়ারেন বাফেট প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সংবাদপত্র পড়েন
ছবি: সিএমকিউ ইনভেস্টিং – সাবস্ট্যাক

বাফেট বলেন, ‘তোমরা সবাই বই পড়ার মাধ্যমে এই কথার সত্যতা যাচাই করতে পারো। কিন্তু আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, তোমাদের মধ্যে অনেকেই তা করবে না।’

বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী বিল গেটস বছরে প্রায় ৫০টি বই পড়েন। অর্থাৎ সপ্তাহে প্রায় একটি করে বই শেষ করেন তিনি! তাঁর পছন্দের তালিকায় থাকে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও ব্যবসাসম্পর্কিত নন-ফিকশন বা তথ্যভিত্তিক বই। মাঝেমধ্যে তিনি উপন্যাসও পড়েন।

বই হাতে বিল গেটস
ছবি: গেটস নোটস এলএলসি

এমনকি কখনো গভীর রাত পর্যন্ত এক বসায় একটি বই পড়ে শেষ করেন। এই বইগুলো পড়েই তিনি পৃথিবীটাকে আরও ভালোভাবে জানতে চান।

মার্ক জাকারবার্গ

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ২০১৫ সালে প্রতি সপ্তাহে একটি নতুন বই পড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা।

মার্ক জাকারবার্গ সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কমিয়ে বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন
ছবি: দ্য ইকোনমিক টাইমস

তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘বই আপনাকে একটি বিষয়ে পুরোপুরি জানতে সাহায্য করে। আজকের দিনের বেশির ভাগ মিডিয়ার তুলনায় বইয়ের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের অনেক গভীরে যাওয়া যায়।’ তিনি সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কমিয়ে বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

আরও পড়ুন
বিল গেটস বছরে প্রায় ৫০টি বই পড়েন। অর্থাৎ সপ্তাহে প্রায় একটি করে বই শেষ করেন তিনি! মাঝেমধ্যে তিনি উপন্যাসও পড়েন। এমনকি কখনো এক বসায় একটি বই পড়ে শেষ করেন।

ইলন মাস্ক

টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো বিশ্বসেরা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তিনি তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করেন বই পড়ার অভ্যাসকে। তরুণ বয়সে মাস্ক দিনে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়তেন।

ইলন মাস্ক বই পড়তে ভীষণ পছন্দ করেন
ছবি: জায়ান্ট ফ্রিকিন রোবট

শোনা যায়, মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি পুরো এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা পড়ে শেষ করেছিলেন! রকেট সম্পর্কে এত জ্ঞান তিনি কীভাবে পেলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর সোজাসাপটা জবাব, ‘আমি প্রচুর বই পড়ি!’

ডেভিড রুবেনস্টাইন

প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থা দ্য কার্লাইল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেভিড রুবেনস্টাইন। তিনি প্রতিদিন আটটি সংবাদপত্র পড়েন। সপ্তাহে পড়েন ছয়টি বই।

বই হাতে ডেভিড রুবেনস্টাইন
ছবি: রবার্ট সেভেরি

এই বিপুল পরিমাণ বই পড়ার পেছনে কাজ করে তাঁর লেজারের মতো তীক্ষ্ণ মনোযোগ।

ফিল নাইট

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্যমতে, নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইট তাঁর অফিসের পেছনের লাইব্রেরিটি খুব পবিত্র মনে করতেন। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে হলে জুতা খুলে ঢুকতে হতো।

নাইকির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইট
ছবি: আরলোরেন

একবার নাইটকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, প্রধান নির্বাহী পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরও কি তিনি লাইব্রেরিটি সংরক্ষণ করবেন? তখন নাইট হেসে বলেছিলেন, ‘অবশ্যই, লাইব্রেরিটি এখনো আছে! আমি সব সময় শিখছি।’

সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

আরও পড়ুন