আঙুলের ছাপ কি নকল করা যায়
অপরাধ শনাক্ত-সম্পর্কিত বিজ্ঞানে আঙুলের ছাপ নকল অসম্ভব বলে দাবি করা হয়। যদিও কেউ আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন করে এ ব্যাপারে আপাত সফল হয়, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের পরীক্ষায় সেই নকল ধরা সম্ভব। কারও আঙুলের চামড়া পুড়ে বা সাময়িকভাবে নষ্ট হলেও পরে নতুন চামড়ায় একই ধরনের ছাপ তৈরি হয়। আধুনিক যেসব যন্ত্র আঙুলের ছাপ স্ক্যান করে অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করে, অথবা যেসব এটিএম মেশিন আঙুলের ছাপ শনাক্ত করে গ্রাহককে টাকা দেয়, সেখানে জালিয়াতির একটি আশঙ্কা থাকে। যেমন কেউ কারও আঙুল কেটে এটিএম মেশিনে তার ছাপ ব্যবহার করে টাকা তুলে নিতে পারে। তাই এখন অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি একই সঙ্গে ব্যক্তির জৈবিক ও সাংকেতিক তথ্য সমন্বয় করতে পারে।
মেশিন বুঝতে পারে, আঙুলটি নিষ্প্রাণ না সজীব। কারণ, ছাপ নেওয়ার সময় তাতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে কি না, সেটাও যন্ত্র বুঝতে পারে। তাই কারও কাটা আঙুল ব্যবহার করে এই মেশিনকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত স্ক্যানার মেশিনগুলো থেকে যেসব রশ্মির বিকিরণ ঘটে, তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে কি না, এ বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সময় আমাদের দেহ বিভিন্ন রশ্মি দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ওই সব ক্ষেত্রেও শরীরের কতটা ক্ষতি হয়, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে হয়তো এ ধরনের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা বদলানো হতে পারে।
