জেব্রা ক্রসিংয়ে কি জেব্রা পার হতো
এটা অবশ্য বলা মুশকিল। তবে অস্ট্রেলিয়ায় হরিণ পারাপারের জন্য গাড়িচালকদের সতর্ক করে হাইওয়ের পাশে নোটিশ বোর্ড দেখেছি। জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা হয় শহরের বিশেষ কিছু সড়ক-সংযোগে পথচারী পারাপারের জন্য। ডোরাকাটা হলুদ-সাদা বা হলুদ-কালো দাগ ব্যবহার করা হয়। জেব্রার শরীরের ডোরাকাটা দাগের সঙ্গে রং ও নকশার মিল থাকার কারণে হয়তো এ রকম নাম দেওয়া হয়েছে। গাড়িচালকেরা অনেক দূর থেকে সহজে এই চিহ্ন দেখতে পারেন বলে জেব্রার গায়ের মতো করে এই ক্রসিংয়ের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। জেব্রা ক্রসিংয়ে সাধারণত গাড়িচালকদের থামার জন্য কোনো সংকেত বাতি থাকে না। আমাদের দেশে অবশ্য সাদা-কালো দাগের ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় লাল-সবুজ সংকেত বাতি থাকে।
মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিংয়ে সে রকম ব্যবস্থা থাকে না, দুই পাশ দেখে রাস্তা পার হতে হয়। বাতি থাকে পেলিক্যান ও পুফিন ক্রসিংয়ে। পুফিন একধরনের সামুদ্রিক পাখি। পেলিক্যান বরফাচ্ছন্ন মরু অঞ্চলের পাখি। এদের গায়ে দুই রঙের পার্থক্য সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই ওদের নামে পথচারী পারাপারের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পথচারী রাস্তার মোড়ে এসে নিজে একটি সুইচ টিপে সবুজ বাতির সংকেতের জন্য অপেক্ষা করেন। পুফিন ক্রসিংয়ে বাতি পথচারীর পাশেই জ্বলে আর পেলিক্যান ক্রসিংয়ে জ্বলে রাস্তার অপর পাশে। এ ছাড়া রয়েছে টুকিন ক্রসিং। টুকিন একধরনের উজ্জ্বল রঙের পাখি। এদের উজ্জ্বল রঙের জন্য রাস্তা পারাপারের চিহ্নের নাম দেওয়া হয়েছে। টুকিন ক্রসিংয়ে পথিক ও সাইকেলচালক, উভয়ে রাস্তা পার হতে পারেন। কখনো মাঝপথে বাতি জ্বলা-নেভা শুরু করলে না থেমে বাকি পথ পার হয়ে যেতে হয়। সব সময় পারাপারের জন্য সবুজ সংকেত জ্বলে উঠলেও সঙ্গে সঙ্গে পার হওয়া শুরু না করে গাড়ি মোড়ে এসে থামছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত।