তারিখ পার হয়ে যাওয়া খাবার খাব কি

দোকান থেকে কেনা খাবারের প্যাকেটে লেখা তারিখ পার হয়ে গেছে। এখন খেলে কি ক্ষতি হবে? ফেলে দেব কি? এ রকম দোটানায় আমরা প্রায়ই পড়ি। কী করা উচিত? তারিখ লেখার আসল মানে কী? অনেক সময় তারিখ অস্পষ্ট থাকে। যদি মারাত্মক ক্ষতি হবে, তাহলে কেন পরিষ্কারভাবে তারিখ লেখা বাধ্যতামূলক করা হয় না? এসব বিষয়ে কিছু দরকারি তথ্য আমরা জেনে নিতে পারি।

খাবারের মেয়াদ শেষের তারিখ যতটা না বাধ্যতামূলক তার চেয়ে বেশি নির্দেশনামূলক। যেমন, এক প্যাকেট গুঁড়া দুধের নির্দিষ্ট তারিখ পার হওয়ার পরদিনই যে সেটা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বে, তা নয়। আসলে ও রকম তারিখ লেখা থাকে বিক্রেতাদের জন্য, ক্রেতাদের জন্য ততটা নয়। তার মানে ওই তারিখের পর বিক্রি না করাই ভালো। অনেক সময় লেখা থাকে, '... তারিখের মধ্যে বিক্রি করুন'। ওই তারিখের পর আরও কিছুদিন খাদ্য সুস্বাদু ও নিরাপদ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শুধু শিশুখাদ্য ছাড়া অন্য খাদ্যের তারিখ নিয়ন্ত্রণ করে না।

অমুক তারিখের মধ্যে ব্যবহার করুন বা ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো-এ ধরনের লেখা সাধারণত খাদ্যের স্বাদ ও গঠন-কাঠামোর (স্ট্রাকচার) বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নির্দেশ করে, খাদ্য নিরাপদ থাকার বিষয়ে নয়।

আরও পড়ুন
এক প্যাকেট গুঁড়া দুধের নির্দিষ্ট তারিখ পার হওয়ার পরদিনই যে সেটা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বে, তা নয়। আসলে ও রকম তারিখ লেখা থাকে বিক্রেতাদের জন্য, ক্রেতাদের জন্য ততটা নয়।

যদি 'মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ...' কথাটা লেখা থাকে, তাহলে তারিখ পার হয়ে গেলে খাবার ফেলে দেওয়া উচিত। কোনো ওষুধের তারিখ পার হয়ে গেলে সেটা না খাওয়া উচিত (সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস/সায়েন্স টাইমস, ৭ জুলাই ২০১৫)।

খাদ্য কখন, কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সাদা চোখে দেখে খাবার ভালো আছে কি না, তা বোঝা যায় না। কারণ, ব্যাকটেরিয়া চোখে ধরা পড়ে না।

হিমায়িত খাবার সাধারণত অনেক দিন ভালো থাকে। তারপরও সাধারণ বুদ্ধি খাটানো দরকার। যেমন, ডিপ ফ্রিজে মাসের পর মাস রেখে দেওয়া খাদ্যের ওপর যদি হালকা প্রলেপ জমে বা উৎকট গন্ধ বেরোয়, তাহলে না খাওয়াই ভালো। কথায় বলে, সন্দেহ হলে ফেলে দাও!

আরও পড়ুন