ব্যাথা পেলে বরফ দেব না গরম সেঁক
খেলার সময় বা অন্য কোনোভাবে ব্যথা পেলে শরীরের কোনো অংশ ফুলে যায়। হাঁটা চলাফেরায় সমস্যা হয়। এ অবস্থায় কী করা উচিত? গরম সেঁক না ঠান্ডা বরফের পট্টি লাগাব? বুঝব কীভাবে কোনটায় উপকার বেশি পাব? এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
সাধারণ ব্যথায় আমরা অনেক সময় গা লাগাই না। কিন্তু পরে দেখা যায় অসহ্য ব্যথা। তাই প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে ব্যথার মাত্রা কতটা। যদি আঘাত বেশি হয়, তাহলে ব্যথার স্থানে দ্রুত বরফের পট্টি দিতে হবে। একে বলে 'ক্রায়ো থেরাপি' বা 'কোল্ড থেরাপি'। হাতের কাছে বরফ না থাকলে ঠান্ডা পানিতে এক টুকরো কাপড় ভিজিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে লাগাতে হবে।
এ ক্ষেত্রে খুব পরিচিত পদ্ধতি হলো 'রাইস সিকোয়েন্স'। ইংরেজি এই শব্দের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে গঠিত শব্দগুলো হলো, রেস্ট (বিশ্রাম), আইস (বরফ), কম্প্রেশন (চাপ) ও এলিভেশন (অবস্থার উন্নতি)। অর্থাৎ আঘাতের মাত্রা বেশি হলে হাঁটা-চলাফেরা না করে ব্যথার স্থানে বরফ-ঠান্ডা পট্টি চেপে রেখে অবস্থার উন্নতি ঘটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও দুই তিন দিন পর এর ফলপ্রসূতা আর থাকে না, তখন হালকা ব্যায়ামে উপকার পাওয়া যায়।
প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে ব্যথার মাত্রা কতটা। যদি আঘাত বেশি হয়, তাহলে ব্যথার স্থানে দ্রুত বরফের পট্টি দিতে হবে। একে বলে ক্রায়ো থেরাপি বা কোল্ড থেরাপি।
ব্যায়াম বা খেলাধুলার সময় ব্যথা পেলে কখনো হয়তো প্রথমে তেমন কিছু মনে হয় না, কিন্তু পরে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের পেশি ফুলে ওঠে ও ব্যথা তীব্রতর হয়। একে বলা হয় 'বিলম্বিত পেশি পীড়া' (ডিলেইড অনসেট মাসল সোরনেস)। এ রকম হলে ঠান্ডা-গরম-দুই ধরনের পদ্ধতিই প্রয়োগ করা যেতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে এর উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ ধরনের চিকিৎসার ফলপ্রসূতা খুব বেশি পাওয়া যায়নি এবং এর সুফল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
১০০ জন ব্যক্তির তুলনামূলক স্বাস্থ্য উপযুক্ততা (ফিটনেস) যাচাই করা হয়। ব্যায়ামের সময় ব্যথা পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদের পেশির ক্ষত ও ব্যথা কমানোর জন্য ৫০ জনকে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা বা গরম সেঁকের চিকিৎসা প্রয়োগ ও বাকি ৫০ জনকে কোনো চিকিৎসাই দেওয়া হয়নি। গবেষকেরা দেখেছেন, ঠান্ডা বা গরম দুই প্রক্রিয়ায়ই উপকার পাওয়া গেছে, তবে ব্যথা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা ২৪ ঘণ্টা পর যাঁদের ঠান্ডা পট্টি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা বেশি উপকার পেয়েছেন। এ বিষয়ে দ্য জার্নাল অব স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কনডিশনিং রিসার্চে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে (সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ৭ নভেম্বর ২০১৫)।
তবে মনে রাখা দরকার, ব্যথায় হাড়ে চিড় ধরতে পারে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
