শেষ হলো ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াডের ঢাকা পর্ব
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১৩তম ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড। ১ মে, শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এই অলিম্পিয়াডের ঢাকা বিভাগীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান মো. বদরুদ্দোজা মিয়া এবং অধ্যাপক কাজী মতীন উদ্দীন আহমেদসহ বিশিষ্ট অতিথিরা। তাঁরা অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও পরিবেশসচেতনতা তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখে। এটি কেবল মেধা যাচাইয়ের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব নেতৃত্ব তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম।
শুক্রবার ভোর থেকেই ঢাকা শহরে মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শতাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবার অলিম্পিয়াডের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিজ্ঞানকে নতুন আঙ্গিকে দেখা’।
অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা পরিবেশের বর্তমান সমস্যা ও পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বৈজ্ঞানিক উপায়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। আর্থ সায়েন্স কী এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে এই সেশনগুলো থেকে তারা পরিষ্কার ধারণা পায়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবেশগত বিভিন্ন সংকট নিয়েও এতে আলোচনা করা হয়।
সেশনগুলোর পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। একে একে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নাম শোনার পর তারা মঞ্চে এসে অতিথিদের কাছ থেকে নিজ নিজ সনদ গ্রহণ করে। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই অলিম্পিয়াড থেকে ঢাকা পর্বের জন্য মোট ৯০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২ মে ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) অনুষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘গ্রিন ডে ট্রেনিং’। ঢাকা পর্ব থেকে বাছাই করা ৯০ জন শিক্ষার্থী এই কর্মশালায় অংশ নেয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরি করা এবং দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে সেই নেতৃত্বের চর্চা করা যায়, তা শেখানো।
শিক্ষার্থীরা এখানে হাতে-কলমে নানা কাজ শিখেছে। বিভিন্ন সেশনের পাশাপাশি ছিল দলগত কাজ ও বাংলাদেশের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ কেস স্টাডি। এই কর্মশালা থেকে নির্বাচিত সেরা ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট দেড় লাখ টাকা অর্থায়ন ও মেন্টরশিপ সহায়তা দেওয়া হবে, যেন শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।
এই ধাপ শেষে শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। সেখান থেকে নির্বাচিত বিজয়ীরা যাবে ইতালিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে। সেখানে তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থী দেশব্যাপী ২ হাজার ৮০০ সদস্যের বিশাল নিও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যতে পরিবেশ নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করবে।
২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ (বিওয়াইইআই) এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করে আসছে। এবারের আয়োজনে সহায়তা করেছে উত্তর আমেরিকান পরিবেশ শিক্ষা সমিতি (এনএএএইই) এবং জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) একাডেমিক সহযোগিতা দিচ্ছে। এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে কিশোর আলো।