শেষ হলো ক্যাম-সাস্ট সামার স্কুল অন অ্যাস্ট্রোফিজিকস

সামার স্কুলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল গবেষক তাবাসসুম শাহরিয়ার তানভীরের সেশনের মাধ্যমে

কোপার্নিকাস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল মেমোরিয়াল অব সাস্ট (ক্যাম-সাস্ট) আয়োজিত ‘সামার স্কুল অন অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ২০২৫’ শেষ হলো। ৩-১২ সেপ্টেম্বর চলে এই সামার স্কুল। বাংলাদেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। এটি অনলাইন এবং অফলাইনের সমন্বয়ে হাইব্রিড পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। দেশ ও বিদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলাফল অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।

সামার স্কুলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল গবেষক তাবাসসুম শাহরিয়ার তানভীরের সেশনের মাধ্যমে। তিনি আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে যান নক্ষত্রের জন্মের অজানা জগতে। তিনি ‘ফিজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্টার ফরমেশন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর লেকচারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নক্ষত্রের জন্মের জটিল প্রক্রিয়া ক্লাউড কলিশন সিমুলেশনসহ বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারেন। চার পর্বে বিভক্ত এই সেশনের প্রতিটি অংশ শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়

এরপর দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করেন কানাডার  ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলোর পোস্টডক্টরাল ফেলো লাম্মিম আহাদ। তিনি ‘দ্য লার্জেস্ট স্ট্রাকচার ইন দ্য ইউনিভার্স’ শিরোনামে আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দেব মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের সঙ্গে। কোটি কোটি নক্ষত্র, অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার, উত্তপ্ত গ্যাস এবং বিলিয়ন বছরের বিবর্তন নিয়ে এই কাঠামো মহাবিশ্বের স্থাপত্য রচনা করে। মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো, গ্যালাক্সি ক্লাস্টার, আন্তঃগ্যালাক্টিক গ্যাস এবং ডার্ক ম্যাটারের গঠন ও বিবর্তন নিয়ে তাঁর উপস্থাপনায় অংশগ্রহণকারীরা মহাবিশ্বের গতিশীলতাকে ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। তিনি দেখান, কীভাবে কম্পিউটার সিমুলেশন ও আকাশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা এসব রহস্যময় কাঠামো বুঝতে পারি। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন

তৃতীয় সেশন পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের  ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক তনিমা তাসনিম অনন্যা। ‘হাউ অ্যাস্ট্রোনোমারস টুডে ফাইন্ড এক্সাইটিং কসমিক ফেনোমেনা’ শিরোনামে তিনি গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ, ব্ল্যাক হোল সংঘর্ষ, সুপারনোভা বিস্ফোরণ এবং প্রাচীন মহাবিশ্ব নিয়ে আধুনিক গবেষণার চমৎকার দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে আধুনিক টেলিস্কোপ ও গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ ডিটেক্টর মহাবিশ্বের শক্তিশালী ঘটনাগুলো আমাদের সামনে উন্মোচন করেছে।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের রিসার্চ ইন্টার্ন কে. এম. শরীয়ত উল্লাহ পরিচালনা করেন ‘সিমুলেটিং দ্য ইউনিভার্স ইউজিং ২১ক্যামফাস্ট’ শীর্ষক সেশন। তিনি দেখান, কীভাবে কসমোলজিক্যাল প্যারামিটারগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাথমিক মহাবিশ্বের হাইড্রোজেন আয়নিত হওয়ার প্রক্রিয়া মডেল করা যায়।

দ্বিতীয় সেশনে তন্ময় শেখান, কীভাবে টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ফটোমেট্রিক ডেটা ব্যবহার করে গ্যালাক্সির বৈশিষ্ট্যগুলো নির্ধারণ করা যায়।

এসবের পাশাপাশি সামার স্কুলে ছিল প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য সংমিশ্রণ। এক বিকেলে অংশগ্রহণকারীরা যান সিলেটের পাঠানটুলায় অবস্থিত তারাপুর চা বাগানে। ছোট ছোট ঢিবি পেরিয়ে হাঁটার আনন্দ, বিকেলের স্নিগ্ধ পরিবেশ আর আলাপচারিতায় ভরে ওঠে সবার মন।

আরও পড়ুন
এসবের পাশাপাশি সামার স্কুলে ছিল প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অনন্য সংমিশ্রণ

সন্ধ্যায় পরিকল্পনা ছিল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের। আকাশ পর্যবেক্ষণে ক্যাম-সাস্টের সঙ্গী হয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছবি তোলা ও আউটরিচ বিষয়ক সংগঠন দুরবিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আকাশে মেঘ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

এক বিকেলে অংশগ্রহণকারীরা যান সিলেটের পাঠানটুলায় অবস্থিত তারাপুর চা বাগানে

সামার স্কুলের শেষদিন ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি  সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। তিনি সুপারনোভা কসমোলজি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে টাইপ Ia সুপারনোভার লাইট-কার্ভ ও স্পেকট্রাল বিশ্লেষণ করে কসমোলজিক্যাল প্যারামিটার নির্ণয়ের পদ্ধতি অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে টাইপ Ia সুপারনোভাকে স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেল ধরে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার ও কসমোলজিক্যাল প্যারামিটার নির্ধারণ করা হয়।

সন্ধ্যায় পরিকল্পনা ছিল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের। আকাশ পর্যবেক্ষণে ক্যাম-সাস্টের সঙ্গী হয়েছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছবি তোলা ও আউটরিচ বিষয়ক সংগঠন দুরবিন

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ক্যাম-সাস্টের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর নাজিয়া চৌধুরী। সার্টিফিকেট বিতরণের মধ্য দিয়ে এই সামার স্কুলের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

ক্যাম সাস্ট আয়োজিত এই সামার স্কুলে ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল জনপ্রিয় মাসিক বিজ্ঞান ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।

আরও পড়ুন