আন্তর্জাতিক রোবটিকস আসরে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্টের ব্রোঞ্জ জয়

ভারতের হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের এশিয়া-প্যাসিফিক ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশ। গত ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতার ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্ট অর্জন করেছে এই ব্রোঞ্জ পদক। একই প্রতিযোগিতায় ফিউচার ইনোভেটরস ক্যাটাগরিতে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের আরেক দল টিম অডিসি এক্স। এই আন্তর্জাতিক আসরে ২৫টি দেশের মোট ১৪৯টি দল অংশ নেয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট চারটি দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স ক্যাটাগরির টিম ব্লুপ্রিন্ট, ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়র ক্যাটাগরির টিম অডিসি এক্স ও টিম নেবুকোডার্স এবং রোবোমিশন সিনিয়র ক্যাটাগরির টিম রোবোম্যানিয়া। ব্রোঞ্জ পদকজয়ী টিম ব্লুপ্রিন্টের সদস্যরা হলেন সৈয়দ সুবেহ-সাদিক, মো. আজমাইন শেখ ও সাম্মান রাহিন। অন্যদিকে ফিউচার ইনোভেটরস সিনিয়র ক্যাটাগরিতে সপ্তম স্থান অর্জনকারী টিম অডিসি এক্সের সদস্যরা হলেন আবিদা ওয়াদুদ এবং  সাদমান আল হক।

আরও পড়ুন

ব্রোঞ্জ পদকজয়ী দলের সদস্য আজমাইন শেখ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করা আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। প্রতিযোগিতার পুরো সময়জুড়ে বিভিন্ন দেশের দক্ষ দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতাও যাচাই করতে পেরেছি। এই অর্জন ভবিষ্যতে আমাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

উল্লেখ্য, নির্বাচিত ৯ জন প্রতিযোগীসহ মোট ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ দল ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের হায়দরাবাদে পৌঁছায়। দলনেতা হিসেবে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের এক্সিকিউটিভ সদস্য ও ডব্লিউআরওয়ের ন্যাশনাল অর্গানাইজার প্রমি নাহিদ এবং বাংলাদেশ দলের কোচ নাসির খান সৈকত। এ ছাড়া দলের সঙ্গে একজন মেন্টরসহ আরও দুজন দলীয় সহযোগী ছিলেন।

আরও পড়ুন

দলনেতা প্রমি নাহিদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে শুধু রোবট তৈরি করলেই হয় না; বরং সমস্যা বিশ্লেষণ, সময় ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলগত সমন্বয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দলগুলো প্রতিকূলতা সামলে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা ভালোভাবে তুলে ধরেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’

এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘রোবট মিটস কালচার’।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক ও ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। গোল্ড স্পনসর হিসেবে ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পনসর ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট। ক্লাব পার্টনার হিসেবে ছিল ইউআইইউ রোবোটিকস ক্লাব এবং নলেজ পার্টনার ছিল গ্রে ম্যাটার রোবোটিকস। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞান ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।

আরও পড়ুন