রোবট প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনের চমক, দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ

রোবটিকসের অলিম্পিকখ্যাত ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ (এফজিসি) ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৭ থেকে ১০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন শহরে বসবে রোবটিকসের এই বিশ্ব আসর। বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে ১৯০টি দেশ এবার এতে অংশ নিচ্ছে। দশমবারের মতো এই আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ দলও।

এবারের বাংলাদেশ দলের নির্বাচিত সদস্যরা হলেন মাহরুজ মোহাম্মদ আয়মান, মো. মুহতাসাম মুশাররফ শাফি, মো. ইশমাম শাহরুজ চৌধুরী, সুহানা মান্নান, নূরাজ হোসেন, সারিম আহমেদ, নুজহাত জাহান ও সন্দীপন কুণ্ডু। প্রধান মেন্টর হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ শামস জাবের। এ ছাড়া মেন্টর হিসেবে আরও আছেন রায়হান আহমেদ রাহাত, সিফাত সামিয়া ইসলাম, মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ান, ফায়েজ আলম রিমন ও তাহা কাইজার দিসাওয়ালা। বাংলাদেশ দল নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে দ্য টেক অ্যাকাডেমি। 

আরও পড়ুন

এ উপলক্ষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার দ্য টেক অ্যাকাডেমি কার্যালয়ে আয়োজিত হয় ‘টিম বাংলাদেশ: রোড টু এফজিসি ২০২৬ সাউথ কোরিয়া’ শীর্ষক রোবট প্রদর্শনী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমির বিজনেস ইকোনমিস্ট কনসালট্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির বনানী শাখার অপারেশনাল ম্যানেজার অ্যালভিন রসি সরকার, পরিবেশবান্ধব এনার্জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোলশেয়ারের ডেপুটি সিইও আজিজা সুলতানা মুক্তিসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি লিড শাভিনা আনাম, গ্লোবাল শেপার্স ঢাকা হাবের প্রতিষ্ঠাতা কিউরেটর মোহাম্মদ তাওহিদ, এসিআই ইন্ডাস্ট্রি পিএলসির অদম্য মেধাবী করপোরেট বিভাগের এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ শাহ আলম, ইএসজিব্রিজ বাই বেটারস্টোরিজ লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পার্টনারশিপ লিড ফাতেমা তুজ জোহরা এবং দ্য টেক অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর অব অপারেশনস মোহাম্মদ কবির উদ্দিন। 

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দলের প্রধান মেন্টর মোহাম্মদ শামস জাবের। দ্য টেক অ্যাকাডেমিতে শিশু-কিশোরেরা আরডুইনো, ইলেকট্রনিকস, প্রসেসিং ও নানা ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রোবট নির্মাণসহ আধুনিক প্রযুক্তির নানা বিষয় কীভাবে শেখে, সে ব্যাপারে অতিথিদের সংক্ষেপে জানান তিনি। এরপর এফজিসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফার্স্ট গ্লোবাল সাধারণ কোনো রোবটিকস প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের ১৯০টি দেশের রোবটিকস শিক্ষার্থী এবং মেন্টরদের মিলনমেলা। তাই এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, নতুন নতুন জিনিস শেখা এবং গোটা বিশ্বের প্রায় সব কটি দেশের মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দারুণ এক সুযোগ।’ 

আরও পড়ুন

তিনি জানান, রোবটিকসের অলিম্পিকখ্যাত এ আয়োজনে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো যোগ দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালের বিশ্ব আসরে ১৭৪টি দেশের সঙ্গে লড়াই করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ দল। সেবারের আসরটি অবশ্য অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালে রৌপ্যপদক জিতেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২১ সালে প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও টিম বাংলাদেশ ভালো ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

এরপর শুরু হয় রোবট প্রদর্শনী। ২০২৬ সালে এফজিসির প্রতিপাদ্য ‘ইগনাইটিং ইনোভেশন: ফোকাসিং অন ওয়াইল্ড ফায়ার প্রিভেনশন, মিটিগেশন অ্যান্ড রিকভারি’। অর্থাৎ প্রযুক্তির সাহায্যে দাবানলের আগুন প্রতিরোধ, নিবারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। এ জন্য টিম বাংলাদেশ এবার তিন ধরনের শুটার রোবট বানিয়েছে, যেগুলো দূর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত বল ছুড়ে মারতে পারে। প্রয়োজনে পাইপ বেয়ে চড়তেও পারে এসব রোবট। এর মাধ্যমে দূর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছুড়ে দেওয়া যাবে বনের গহিনে কিংবা যেকোনো দালানের ভেতর। অর্থাৎ ভেতরে না ঢুকেই আগুন নিভিয়ে ফেলা যাবে। এসবই সরাসরি করে দেখিয়েছেন টিম বাংলাদেশের সদস্যরা। তাঁদের রোবট প্রোটোটাইপ বল টেনে নিয়ে ছুড়ে দিয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপণের নমুনা প্রদর্শনী সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। 

আরও পড়ুন

এ আয়োজন দেখে উচ্ছ্বসিত মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির অপারেশনাল ম্যানেজার অ্যালভিন রসি সরকার জানান, ‘আমরা সব সময় দেশের শিশু-কিশোরদের অগ্রযাত্রায় যুক্ত থাকতে চেয়েছি। আজ ওদের এই রোবট প্রদর্শনী দেখে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাদের কিশোরেরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় ওরাই পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’ 

উল্কাসেমির বিজনেস ইকোনমিস্ট কনসালট্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘টিম বাংলাদেশের এ আয়োজন আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের জন্য অনেক শুভকামনা।’ 

সোলশেয়ারের ডেপুটি সিইও আজিজা সুলতানা মুক্তি বলেন, ‘রোবট প্রদর্শনী বেশ ভালো হয়েছে, তবে আরও উন্নতি করতে হবে। আমি তোমাদের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করি। আশা করি, এবারও তোমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে।’ 

আরও পড়ুন

দ্য টেক অ্যাকাডেমির আরও কিছু কার্যক্রম নিয়েও এ অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। অ্যাকাডেমির ডিরেক্টর অব অপারেশনস মোহাম্মদ কবির উদ্দিন ও ফাতেমা তুজ জোহরা স্পনসর আ চাইল্ড প্রোগ্রামের আওতায় কড়াইলের যে কিশোর-কিশোরীদের বৃত্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেন। তাঁরা জানান, ‘এই কিশোরেরা বাংলাদেশের জন্য উপযোগী অগ্নিনিয়ন্ত্রক ও নির্বাপক রোবটের প্রোটোটাইপ তৈরি করতে পারবে এবং সেটি সত্যিই কড়াইলের মতো জায়গায় ব্যবহারোপযোগী হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিম বাংলাদেশের মেন্টর মুহাম্মদ আহসান নাহিয়ান। 

এরই মধ্যে এফজিসিতে টিম বাংলাদেশের সঙ্গে গোল্ড স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি এবং শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমি। এ ছাড়া সিলভার স্পনসর হিসেবে রয়েছে পরিবেশবান্ধব এনার্জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোলশেয়ার এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি টি লিমিটেড। দলটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে দ্য টেক অ্যাকাডেমি।

আরও পড়ুন