বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আর দেশের জনসংখ্যার এক–তৃতীয়াংশই তরুণ। বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারার বাইরে রেখে সার্বিক এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে জন্যই ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ ও বিজ্ঞানচিন্তার এ যৌথ উদ্যোগ।

বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ-বিজ্ঞানচিন্তা ‘ইয়ুথ ফর সায়েন্স ২০২২’-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেন। ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ আয়োজনের লক্ষ্য তরুণদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা ও কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে তাদের চিন্তার সুযোগ করে দেওয়া। এই তরুণদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

default-image

ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসাইন বলেন, ‘এ আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। দক্ষিণ এশিয়ায় সাড়ে চার বিলিয়ন মানুষের বাস। তাই আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাবিষয়ক প্রযুক্তিগুলোর প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য চারটি—খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য এবং ভুল তথ্য ছড়ানো রোধ করা। ২০১৯ সাল থেকেই আমরা এ লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখে তরুণদের জন্য “ইয়ুথ ফর সায়েন্স” আয়োজনের চেষ্টা করি। কিন্তু করোনা মহামারিতে এ কার্যক্রম খুব বেশি দূর এগোয়নি। বর্তমানে আমরা বিজ্ঞানচিন্তার সঙ্গে মিলে তরুণদের আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই।’

বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘বাংলাদেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তরুণদের আগ্রহী ও ক্ষমতায়নের জন্য এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করা উচিত।’

default-image

বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা এ পর্যায়ে মজার একটি বিষয় তুলে ধরেন। অতিথিদের সবাইকে প্লাস্টিকের বোতলে পানি না দিয়ে কাচের গ্লাসে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিজ্ঞানচিন্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করি, কিন্তু প্লাস্টিকের বোতল সহজে ছাড়তে পারি না। বিজ্ঞানচিন্তা সেটা করেছে। এ ধরনের পরিবর্তনগুলো অশেষ গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি চমৎকার একটি উদ্যোগ।

আমরা অনেক স্কুলে যাই। শিক্ষার্থীরা আমাদের বলে, তারা প্রকৌশলী হতে চায়, ডাক্তার হতে চায়, পাইলট হতে চায়। কিন্তু কেউ বলে না, বিজ্ঞানী হতে চায়। কারণ, তারা বিজ্ঞানীদের দেখে না। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।’

অধ্যাপক শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি আমাদের ল্যাবগুলোকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উৎসাহী করে তুলতে হবে। এটা আমি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। একটি দেশের সামনে এগিয়ে যাবার জন্য তরুণদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

default-image

আহসান হাবীব বলেন, ‘এ আয়োজন দেখে আমি খুবই খুশি। তবে আমি খুব চাই, এ ধরনের আয়োজনে যেন কার্টুন বা কমিকস আঁকার প্রতিযোগিতা থাকে।’

অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনাপর্বের পরে বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসাইনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে শুরু হলো বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের খোঁজ—ফার্মিং ফিউচার বাংলাদেশ-বিজ্ঞানচিন্তা ‘ইয়ুথ ফর সায়েন্স ২০২২’। এ আয়োজনের লক্ষ্য হলো তরুণদের সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা, বিজ্ঞানসচেতনতায় আগ্রহ বাড়ানো এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে কৃষি ও প্রযুক্তিবিষয়ক তিনটি ক্যাটাগরিতে (রচনা লেখা, ফটোগ্রাফি ও কুইজ) অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে নিচের লিংক থেকে: bigganchinta.com/campaigns/youth-for-science.html

ইভেন্ট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন