রাজশাহীতে চলছে বিজ্ঞান উৎসব

বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিথিরা

রাজশাহীতে চলছে বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজশাহী কলেজে শুরু হয় এ উৎসব। উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বরেণ্য বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও গুনীজন।
সকাল ৭টা থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে। শীতের কুয়াশার চাঁদর ভেদ করে বেড়িয়ে আসছে এক একটি উৎসাহী মুখ। একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন মিলে নিয়ে আসছে প্রজেক্ট। কেউ আবার সঙ্গে নিয়ে এসেছে বাবা, মা বা বড় ভাই বোনকে। কিন্তু সবার চোখে মুখেই দারুণ উৎসাহ। সবাই বিজয়ের হাসিটা হাসতে চায়। জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণ করার টিকিটটা যে এখান থেকেই অর্জন করতে হবে। 

নিজেদের উদ্ভাবন নিয়ে উৎসবে আসে শিক্ষার্থীরা
লাইনে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাসিত মুখে উদ্বোধনীর জন্য অপেক্ষা
বিজ্ঞানমনস্ক একটি তরুণ সমাজ গঠন করা আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকারও সেই কাজটি করছে। এর বাইরেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছে। প্রথম আলো থেকে প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা তার মধ্যে অন্যতম। বিকাশ ও বিজ্ঞানচিন্তার সমন্বিত এই পদক্ষেপ দেশের বিজ্ঞান ভাবনাকে আরও জাগ্রত করবে। এরকম একটি উদ্যোগের সাথে থাকার জন্য শিক্ষার্থী, পিতামাতা ও আয়োজকদের ধন্যবাদ।
মোহা. আব্দুল খালেক, অধ্যক্ষ, রাজশাহী কলেজ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যই সবাই কলেজ মাঠে উপস্থিত হয়। প্রতিবারের মতো জাতীয় সঙ্গীতের জন্য লাইন ধরে দাঁড়ায়। উৎসবের সূচনা হয় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আব্দুল খালেক এবং উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স হুমায়ুন কবির ও প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজাদ।এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. শাহেদ জামান, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজা,  বিকাশের সহাকারী ব্যবস্থাপক শাকিল মাহবুব এবং  বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ
উদ্বোধনীতে জাতীয় পতাকা ও উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিরা

পতাকা উত্তোলন শেষে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, 'বিজ্ঞানমনস্ক একটি তরুণ সমাজ গঠন করা আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকারও সেই কাজটি করছে। এর বাইরেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছে। প্রথম আলো থেকে প্রকাশিত মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা তার মধ্যে অন্যতম। বিকাশ ও বিজ্ঞানচিন্তার সমন্বিত এই পদক্ষেপ দেশের বিজ্ঞান ভাবনাকে আরও জাগ্রত করবে। এরকম একটি উদ্যোগের সাথে থাকার জন্য শিক্ষার্থী, পিতামাতা ও আয়োজকদের ধন্যবাদ।'

প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজাদ তাঁর  বক্তব্যে বলেন, 'বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের। এখানে ছেলেমেয়ে এবং পাশ ফেল বলতে কোনো কথা নেই। সবার অগ্রাধিকার আছে বিজ্ঞানে। বিজ্ঞান জানতে হবে, বুঝতে হবে।  অজানাকে জয় করতে হবে। তাহলেই একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি তৈরি হবে। সবশেষে, এই ঐতিহাসিক সুন্দর কলেজটি আজকে আমাদের ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ।'

আরও পড়ুন
কুইজের আগে নিয়মকানুনগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে শিক্ষার্থীরা

বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স হুমায়ুন কবির বলেন, 'বিজয়ের এই মাসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমাদের বাচ্চারা যেন বিজ্ঞানমনস্ক হয়, দেশ এবং বিদেশে বিজ্ঞানের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যেন সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে সেই উদ্দেশ্যেই বিকাশ এবং বিজ্ঞানচিন্তা মিলে এই উৎসবের আয়োজন করছে। আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ আয়োজনে দেশের কিছুটা হলেও বিজ্ঞানের অগ্রগতি হবে বলে আশাকরি।'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন শাহেদ জামান বলেন, 'আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ সরকার যে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যে কাজ করছে, বিজ্ঞান সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের অনেক কিছু অজানা আছে। সেগুলোকে জানতে হবে। বিজ্ঞানচিন্তা তোমাদের সেই জানানোর কাজটিই করে যাচ্ছে।  তোমরা বিজ্ঞানমনস্ক হও, বাংলাদেশকে একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতিতে পরিণত করো সেই কামনা করি।

কুইজের উত্তর দিতে ব্যস্ত এক খুদে বিজ্ঞানী
নিজেদের তৈরি ড্রোন নিয়ে প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে এসেছে শিক্ষার্থীরা

বিজ্ঞান উৎসবের এই উদ্বোধন পর্ব সঞ্চালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তথাপি আজাদ।

‘বিজ্ঞানে বিকাশ’ স্লোগান সামনে রেখে সাতটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক উৎসব। ইতিমধ্যই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হবে রংপুর, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে।  সবশেষে জাতীয় পর্বের মাধ্যমে শেষ হবে এ আয়োজন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে আঞ্চলিক উৎসবের বিজয়ীরা।

বিজ্ঞান উৎসবে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রজেক্ট প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় থাকবে দুটি ক্যাটাগরি। নিম্নমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেবে ৯ম-১০ম শ্রেণি ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। শুধু নিবন্ধনকারী শিক্ষার্থীরা এই দুই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।

বিজ্ঞান উৎসবের যেকোনো খবর জানতে চোখ রাখুন bigganchinta.com-এ, বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসব ও বিজ্ঞানচিন্তার ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে, প্রথম আলোয় এবং বিজ্ঞানচিন্তার প্রিন্ট সংস্করণে।