আইইউবিতে যোগ দিলেন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন
দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। আইইউবির ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বা কাসার কোর মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কসমোলজিতে আশরাফ উদ্দিনের রয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউএস নেভাল অবজারভেটরিতে অ্যাস্ট্রোনমার এবং টেক্সাসের ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরিতে হবি-ইবারলি টেলিস্কোপের রেসিডেন্ট অ্যাস্ট্রোনমার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি ইনস্টিটিউশন অব ওয়াশিংটনের কার্নেগি অবজারভেটরির পোস্টডক্টরাল ফেলো এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করেছেন। চীনের পার্পল মাউন্টেন অবজারভেটরিতে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টস ইন্টারন্যাশনাল ফেলো হিসেবে তিনি অ্যান্টার্কটিক অ্যাস্ট্রোনমি প্রকল্পে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
আশরাফ উদ্দিন সুপারনোভা কসমোলজির ক্ষেত্রে একজন প্রভাবশালী গবেষক। বিশেষ করে মহাজাগতিক দূরত্বের স্কেল এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের হার বিষয়ক হাবল টেনশন নিরসনে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের পার্পল মাউন্টেন অবজারভেটরিতে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টস ইন্টারন্যাশনাল ফেলো হিসেবে আশরাফ উদ্দিন অ্যান্টার্কটিক অ্যাস্ট্রোনমি প্রকল্পে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
নাসা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডেটা সিস্টেমের তথ্যমতে, আশরাফ উদ্দিন অন্তত ৬৪টি রেফারিড গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর কাজের সাইটেশন সংখ্যা ৫ হাজার ৬০০-এর বেশি। তাঁর গবেষণা প্রবন্ধগুলো দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল এবং মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মতো শীর্ষস্থানীয় জার্নালে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
তিনি কার্নেগি সুপারনোভা প্রজেক্টের সঙ্গে যৌথভাবে হাবল ধ্রুবক পরিমাপের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ডার্ক এনার্জি সার্ভে এবং অস্ট্রেলিয়া-চায়না কনসোর্টিয়াম ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল রিসার্চের মতো টাইম-ডোমেইন অ্যাস্ট্রোনমি গবেষণায় তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
আশরাফ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে প্রফেসর জেরেমি মোল্ডের তত্ত্বাবধানে অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পিএইচডি করেছেন। এর আগে তিনি সুইডেনের চ্যালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি ও স্পেস সায়েন্সে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তারও আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কাসা বাংলাদেশের একমাত্র জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র। এই গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় আশরাফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আশা করা হচ্ছে, তাঁর যোগদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম এবং গবেষণার মানকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।