শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিজ্ঞানী জেবা ইসলাম সেরাজ

অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজছবি: আবদুস সালাম

বিজ্ঞানের বইয়ে অনেক কিছুই পড়া হয়। কিন্তু যাঁরা গবেষণা করে নতুন কিছু জানার বা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই অভিজ্ঞতার গল্প শোনার সুযোগ কতজনের হয়? শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সেই সুযোগ করে দিতেই আয়োজন করা হয়েছে ‘মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্টস’। আগামী ১৪ অক্টোবর, বুধবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিজ্ঞানী অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। এই আয়োজনের মূল থিম ‘মিট, লার্ন, কোয়েশ্চন, ডিসকভার’। অর্থাৎ পরিচিত হও, শেখো, প্রশ্ন করো, আবিষ্কার করো।

অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। উদ্ভিদের আণবিক জীববিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এমন ধানের জাত উন্নয়ন করা। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা কৃষির জন্য একটি বড় সমস্যা। এ ধরনের পরিবেশে স্বাভাবিক ধান চাষ করা বেশ কঠিন। তাই লবণাক্ত জমিতে টিকে থাকতে পারে, এমন ধানের জাত উদ্ভাবনে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিকূল পরিবেশেও কীভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

আরও পড়ুন

অধ্যাপক জেবা ইসলাম ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৮২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে প্রাণরসায়নে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি গবেষণা করেন। ১৯৮৮ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে। ১৯৯১ সাল থেকে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্ভিদ জীবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রকল্পে প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত ফেলো
ছবি: বিজ্ঞানচিন্তা

২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্টিন ক্যাম্পাসে ভিজিটিং গবেষক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন এই গুণী বিজ্ঞানী।

গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা ও বিজ্ঞানচর্চায় অবদানের জন্যও অসংখ্য স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ। ২০১৭ সালে তিনি ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ অ্যাওয়ার্ড পান। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাঁকে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের নির্বাচিত ফেলো।

আরও পড়ুন

মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্টস আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের বিজ্ঞানীদের সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তবে এটি শুধু পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিজ্ঞানীরা কীভাবে গবেষণা করেন, গবেষণার পথে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন এবং তাঁদের কাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে কাজে লাগে, তা-ও বিস্তারিত জানার সুযোগ হবে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিজ্ঞানীকে প্রশ্ন করতে পারবে। এতে বিজ্ঞান নিয়ে তাদের কৌতূহল যেমন বাড়বে, তেমনি ভবিষ্যতে গবেষণা ও বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়েও একটি পরিষ্কার ধারণা পাবে তারা।

আয়োজনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউনেসকো অ্যাসোসিয়েটেড স্কুলস নেটওয়ার্ক। বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের ১২ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি বোঝাপড়া বাড়ানোই এই নেটওয়ার্কটির অন্যতম লক্ষ্য। ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজও এই নেটওয়ার্কের একটি গর্বিত সদস্য।

আরও পড়ুন