আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল
শুরু হয়েছে ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার দিপক শহরে ২ অক্টোবর এই আসর শুরু হয়েছে। চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল পৌঁছে গেছে ইন্দোনেশিয়ায়।
এবারের বাংলাদেশ গণিত দলে রয়েছে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। তারা হলো অরিজিৎ সাহা, মো. নবীহ হোসাইন, ইহান আবরাদ রহমান, মো. সামিন সাইফ, ইরতিশ জায়েদ লিয়াম, শারাফ বিন আনোয়ার, আলী ওমর ও মো. শাহিদ মোরসালিন।
বিজ্ঞান দলে আছে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাহমিদ হাসান, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিজ্ঞান রায় গল্প, সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের রাইয়ান আফরাদ, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাহাবী ইবনে কাব্য, সিরাজগঞ্জের বনওয়ারী লাল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের রাফসান শফিক তালুকদার, বাসিরাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরহাম আবিদ, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. মিফতাহুল ইসলাম এবং এ.জি. চার্চ স্কুলের মোহাম্মদ মুশরিফ আলম। এদের মধ্যে অরিজিৎ সাহা ও তাহমিদ হাসান গতবার মালয়েশিয়ায় রৌপ্যপদকজয়ী দলের সদস্য ছিল। নিজেদের সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারও তারা অংশ নিচ্ছে।
এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য দল বাছাই করা হয় বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর মাধ্যমে। গত ৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে একযোগে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর অনলাইন ক্যাম্প শেষে ২১ ও ২২ আগস্ট ঢাকায় দল নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে ৮ জন করে মোট ১৬ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গত ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তিন দিনের আবাসিক প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেকলমে পরীক্ষাগার অনুশীলন ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রস্তুতি শেষে দলটি গত ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ৯ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনটি ২০০৩ সালে ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড নামে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রসারিত হয়। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে অনুষ্ঠিত ২২তম আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই শতভাগ সাফল্য পায়। সেবার দলের ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পদক জেতে, যার মধ্যে ছিল ২টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জপদক।
আইএমএসও ২০২৬-এ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে আছেন বিডিওএসএনের সভাপতি ও আইএমএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনির হাসান। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন মো. তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞান মেন্টর মিম নাজ রহমান ও গণিত মেন্টর সামিরা সুমাইয়া।
বিডিএমএসওর লক্ষ্য নিয়ে মুনির হাসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল মুখস্থবিদ্যা নয়, বরং খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত ও বিজ্ঞানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া, তাদের অনুসন্ধিৎসু মন তৈরি করা এবং যৌক্তিক চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ানো।’
বিডিএমএসও ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করছে এসপিএসবি, বিডিওএসএন ও ম্যাসল্যাব। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই পার্টনার পুষ্টি। সহযোগিতায় রয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, বিজ্ঞানচিন্তা, কিশোর আলো, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার। ইন্দোনেশিয়ায় ২৩তম আইএমএসওর আয়োজক হিসেবে রয়েছে ম্যাথমেটিকস এডুকেশন ক্লিনিক এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।